গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রাইম ইউনিভার্সিটির ছাত্র রিয়াদ হোসেন (২১) হত্যার ঘটনায় নাঈম হোসেন (৩৪) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার (১৭ জুন) রাতে তাকে কালিয়াকৈর থানার মাদনপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, রিয়াদের দূর সম্পর্কের চাচা নাঈমের হাতে তিনি খুন হয়েছেন। এই হত্যার পেছনে রয়েছে চাচির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের সন্দেহ।
আজ রোববার রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ।
তিনি বলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার রতনপুর ধোপাচালা এলাকার বনের ভেতর ফাঁকা জায়গা থেকে শুক্রবার (১৬ জুন) রাতে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ জুন তিনি নিখোঁজ হন।
কর্নেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ বলেন, রিয়াদ এবং নাঈম দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থানার পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং দূর সম্পর্কের চাচা। নাঈম ২০১৯-২০২১ সাল পর্যন্ত সৌদি আরব থাকাকালে তার স্ত্রীকে দেখাশোনা করেন রিয়াদ। এ সময় তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক হয় বলে চাচা নাঈম সন্দেহ করেন। ২০২১ সালের জুন মাসে তিনি বাংলাদেশে চলে আসেন।
তিনি জানান, নাঈম নিহত রিয়াদের নিকটাত্মীয়দের এটি জানান এবং প্রতিহিংসার জেরে হত্যার জন্য মনস্থির করেন। রিয়াদকে হত্যার জন্য পলাশ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করে টাকাও দেন।
র্যাব জানায়, এরপর নাঈম বিভিন্ন সময়ে রিয়াদকে হত্যার জন্য পলাশকে চাপ দিতে থাকেন। ১৩ জুন পলাশ ও নাঈম, রিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার মেস থেকে গাজীপুরের, মৌচাক এলাকায় নিয়ে আসেন। তারা রিয়াদকে চা খাওয়ানোর পর কিছু সময় তাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন। সন্ধ্যায় নাঈম তার ভাড়া নেওয়া পুকুরপাড়ে নিয়ে পলাশকে হত্যা করার জন্য বলেন। পলাশ অনীহা প্রকাশ করলে নাঈম নিজেই হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
র্যাব আরও জানায়, নাঈম কৌশলে রিয়াদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সব তথ্য মুছে দেন এবং আগের ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু করেন। পরে রাত পৌনে ২টার দিকে রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে কালিয়াকৈরের রতনপুর ধোপাচালা এলাকার বনের ভেতর চলে যান। সেখানে গিয়ে নাঈম তার পরিহিত টি-শার্ট খুলে রিয়াদের গলায় ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।