উত্তেজনা ছড়াবে বিএনপি-জামায়াত কাউন্সিলর প্রার্থীরা

আপডেট : ২১ জুন ২০২৩, ০৪:৩৭ এএম

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) পঞ্চম নির্বাচন আজ বুধবার। এবারের নির্বাচনে রয়েছে বেশ কিছু নতুনত্ব। নতুন ১৫টি ওয়ার্ডের নাগরিকরা আজ প্রথমবারের মতো সিটি নির্বাচনে ভোট দেবেন। এবার সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে ইভিএমে। মেয়র পদে গত চারটি নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে হলেও এবার বিএনপির প্রার্থী নেই। বিএনপির মনোনয়নে টানা দুই মেয়াদে নির্বাচিত বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দলের সিদ্ধান্ত মেনে এবার প্রার্থী হননি। তাই মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী একতরফা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আশা করছেন স্থানীয়রা।

মেয়র পদে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ না হলেও সিসিকের ৪২টি সাধারণ ওয়ার্ডে এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত ১৪টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। প্রতিটি ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটের মাঠ গরম করেছেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তাপ-উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমনকি সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে। বিএনপি সিটি নির্বাচন বর্জন করলেও কাউন্সিলর পদে তাদের অর্ধশত নেতাকর্মী প্রার্থী হয়েছেন। কাউন্সিলর পদে জামায়াত সমর্থক ১৫-১৬ জন প্রার্থীও রয়েছেন। ফলে কাউন্সিলর পদে আজ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনই হবে। ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতেও কাউন্সিলর প্রার্থীরা বড় ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সিলেটের টানা বৃষ্টি আজ ভোটের আনন্দে বাগড়া দিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সিলেটে বৃষ্টি হচ্ছে। কখনো ভারী, কখনো হালকা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আজও সিলেটে প্রচুর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ভোটার উপস্থিতি কমে যেতে পারে বলে প্রার্থীরা আশঙ্কা করছেন। এ ছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও রয়েছে। জলাবদ্ধ ভোটকেন্দ্রের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

গত চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ছিলেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। তিনি দুবার জিতেছিলেন, হারেনও দুবার। কামরানও এখন বেঁচে নেই। এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে। বিএনপির প্রার্থী না থাকায় আনোয়ারুজ্জামানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল। তবে সাংগঠনিক শক্তি, দলের ভোটব্যাংক ও প্রার্থীর অবস্থান বিবেচনায় আনোয়ারুজ্জামানের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন বাবুল। আওয়ামী লীগ তথা সরকারবিরোধী ভোট টেনে এগিয়ে যাওয়ার আশা করছেন তিনি। মেয়র পদে আরও ছয়জন প্রার্থী থাকলেও তারা আলোচনায় নেই। এরই মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসান শুরুতে কিছুটা সাড়া জাগালেও দলের সিদ্ধান্তে তিনি নির্বাচন বর্জন করেছেন। অন্য পাঁচ প্রার্থী হলেন জাকের পার্টির জহিরুল আলম, স্বতন্ত্র আবদুল হানিফ কুটু, শাহজাহান মিয়া, ছালাহ উদ্দিন রিমন ও মোস্তাক আহমদ রউফ মোস্তফা।

রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মনে করছেন মেয়র পদে নির্বাচন হবে একতরফা। সরকার দলের প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বড় ব্যবধানে জিতে যাবেন। প্রায় এক মাস আগে বর্তমান মেয়র, বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী যেদিন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন সেদিনই মেয়র নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ হারিয়ে যায়। আনোয়ারের জন্য ভোটের মাঠ ফাঁকা হয়ে পড়ে। সেই ফাঁকা মাঠে আনোয়ারের পক্ষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও সিলেটের নেতাকর্মীরা অবিরাম প্রচারণা চালিয়ে তার অবস্থান আরও শক্ত করেছেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানায়, কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা কিছু কিছু ওয়ার্ডে সংঘাত-সংঘর্ষে জড়াতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিবেচনায় সিলেটে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা করা হচ্ছে। কেন্দ্রের ভৌগোলিক অবস্থান, অবকাঠামো, যোগাযোগ, কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সহিংসতার শঙ্কা ইত্যাদি বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ও সাধারণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে।

সিসিকের ১৯০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩২টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা।

সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সল কাদের জানিয়েছেন, গতকাল দুপুরের পর কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণে যুক্ত কর্মকর্তারা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন্দ্রগুলোকে ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করেছেন। সবগুলো কেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে ইসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত