২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সূচি প্রকাশ হওয়ায় পরিকল্পনা সাজাতে এখন আর বাধা নেই। গ্রুপ পর্বের মোট ৯ ম্যাচ ভারতের ছয়টি ভিন্ন ভেন্যুতে খেলবে বাংলাদেশ। মোট ৬ ভেন্যুর তিনটি চেন্নাই, পুনে ও মুম্বাই বাংলাদেশ দলের কাছে অচেনা। অচেনা তিন ভেন্যু তামিম-মুশফিকদের কাছে পরিচিত করে তুলতে পারেন একজনÑ বাংলাদেশ দলের কম্পিউটার অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাস চন্দ্রশেখরন। ভারতে সবশেষ বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে (২০১৬ টি-টোয়েন্টি) বাংলাদেশ দলে থাকা দুই ক্রিকেটার মোহাম্মদ মিঠুন ও আবু হায়দার রনির চিন্তা এখানেই মিলেছে।
২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো এবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের শুরুটা হচ্ছে ধর্মশালা থেকে। সেবার প্রথম রাউন্ড পার হয়ে মূল পর্বে যেতে হয়েছিল, কিন্তু এবার সরাসরি মূল পর্বের ম্যাচ। ধর্মশালায় প্রথম দুই ম্যাচ বাদে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তৃতীয় ম্যাচ চেন্নাই, ভারতের বিপক্ষে চতুর্থ ম্যাচ পুনে, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে পঞ্চম ম্যাচ মুম্বাইÑ ভেন্যুগুলো বাংলাদেশ দলের কাছে অচেনা। আইপিএলের সুবাদে এক সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়া এই ভেন্যুগুলোতে খেলার অভিজ্ঞতা আর কারও নেই। এই জায়গাটায় ক্রিকেটারদের অস্পষ্টতা দূর করবেন শ্রীনি।
ভারত বংশোদ্ভূত এই কম্পিউটার অ্যানালিস্ট সামনের বিশ্বকাপে কীভাবে ভূমিকা রাখবেন সে ব্যাপারে আবু হায়দার রনি দেশ রূপান্তরকে বলছিলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বাড়তি সুবিধা হলো আমাদের যে কম্পিউটার অ্যানালিস্ট আছে শ্রী, সে কিন্তু ভারতের। ওখানের সব মাঠের উইকেট, রান হওয়া, ডিফেন্ড করা সব ব্যাপারে ওর ধারণা আছে। সে হেল্পফুল এবং অনেক জানে। যেহেতু ভারতে খেলা হবে আমরা ওর থেকে অনেক বেশি সুবিধা পাব।’ আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কম্পিউটার অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করা শ্রীনির ব্যাপারে মোহাম্মদ মিঠুন দেশ রূপান্তরকে বলছেন, ‘যারা আগে ওই মাঠগুলোতে খেলেছে যেমন সাকিব, মোস্তাফিজ তাদের জন্য একটু এগিয়ে থাকা তো হবেই। এছাড়া যারা খেলেনি তাদের জন্য খুব কঠিন হবে না মানিয়ে নেওয়ার। কারণ আমাদের দলে যে কম্পিউটার অ্যানালিস্ট আছে শ্রীনি ও কিন্তু অনেক কিছু জানে ভারতের বিভিন্ন মাঠ বা তার চরিত্র সম্পর্কে। ভারত বিশ্বকাপে উনি বাংলাদেশের জন্য ভালো ইম্প্যাক্ট আনবে।’
সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে কয় ম্যাচ জিতবে তা বলা কঠিন দুই ক্রিকেটারের জন্যই। তবে কন্ডিশন বিবেচনায় শুরুটা ভালো দেখছেন রনি ও মিঠুন দুজনই। রনি বলছিলেন, ‘আফগানদের সঙ্গে ধর্মশালায় খেলা পড়ে ভালোই হয়েছে । ওরা তো স্পিনশক্তি নির্ভর দল। আর আমাদের এখন পেস শক্তিটা দারুণ। সেখানে আমরা ভালো ভাবেই এগিয়ে থাকব। দ্বিতীয় চেন্নাইতে স্পিন সহায়ক উইকেটে অবশ্য নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্ভাবনা দেখি। আমি তো চাইব প্রথম তিনটা ম্যাচই জিতব কিন্তু এটুকু বলা যায় তিনটার দুটোতে আমরা যথেষ্ট এগিয়ে থাকব।’ নিকট অতীতে ভারতের সঙ্গে যে কোনো ম্যাচে বাড়তি অনুপ্রেরণা নিয়ে নামে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম দেখছেন না রনি। তার চোখে ১৯ অক্টোবর পুনের ম্যাচে ভারত চাপে থাকলেও মিঠুন এগিয়ে রাখছেন ভারতকে, ‘ভারতের বিপক্ষে ওদের কন্ডিশনে যে মাঠেই হোক না কেন ওরাই এগিয়ে থাকবে। কিন্তু অন্য ভেন্যুতে অন্য দলগুলোর কথা যদি বলি সেখানে স্পিন ফ্রেন্ডলি, ধীর-নিচু উইকেট বা পেস সহায়ক উইকেট, যাই হোক না কেন বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে। কারণ এখন যে কোনো ডিপার্টমেন্টই ধরি বাংলাদেশ দল কিন্তু যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ। সেটা এই টুর্নামেন্টে কাজে দেবে।’
