বাঁশের বেড়ায় মাছ শিকার ধ্বংসের মুখে জলজ প্রাণী

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৩, ০৭:৪১ এএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নদী-ছড়া, খাল-বিল ও জলাশয় সমূহের যত্রতত্র অবৈধ বাঁশের বেড়ার ছড়াছড়ি। গত কয়েক দিনের বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলে অসাধু মাছ শিকারিচক্র নদী-ছড়া, খাল-বিল ও জলাশয়ে বাঁশের বেড়া (খাঁটি), বাঁধ ও কারেন্ট জাল ফেলে সয়লাব করেছে। এতে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি মাছ, ব্যাঙ, সাপ, কুচিয়াসহ জলজ প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনছে। গত এক সপ্তাহের অভিযানে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর কয়েকটি স্থান থেকে বাঁশের বেড়া, ছড়ায় দেওয়া বাঁধ অপসারণ ও বেশকিছু নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করেছে।

সরেজমিনে উপজেলার রহিমপুর, পতনঊষার, মুন্সীবাজার ও শমসেরনগর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে দেখা গেছে, কয়েক দিনের বর্ষণে জলাশয়সমূহ পানিতে টইটম্বুর হয়ে উঠেছে। লাঘাটা, ফরখানালা, পলক নদীসহ বিভিন্ন ছড়ায় অবৈধভাবে আড়াআড়ি বাঁশের বেড়া (খাঁটি) বসিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। কেওলার হাওর, মকাবিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ফেলে মাছ শিকার করা হচ্ছে।

মৎস্য আইনে নিষিদ্ধ থাকলেও নদী ও ছড়ায় এসব বাঁশের বেড়া, বাঁধ ও কারেন্ট জাল স্থাপন করে পানি নিষ্কাশন ও মাছের অবাধ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বাঁশের খাঁটির সঙ্গে স্থাপিত মাছ ধরার খাঁচায় কুচিয়া, সাপসহ নানা প্রজাতির জলজ প্রাণী ধরা পড়ছে এবং মারা যাচ্ছে।

শমশেরনগরের সমাজকর্মী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এক শ্রেণির মাছ শিকারিচক্র প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এভাবে হাওর ও জলাধারে শত শত কারেন্ট জাল ফেলে মাছ শিকার করছে। মাছের সঙ্গে কারেন্ট জালে ব্যাঙ, সাপ, কুচিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে। স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে প্রশাসনের নাকের ডগায় অবাধে নিষিদ্ধ এসব কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে। তাদের কোনোমতেই রোধ করা যাচ্ছে না।’

এদিকে ব্যাপকহারে অবৈধ পন্থায় মাছ শিকারের অভিযোগ পেয়ে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর গত এক সপ্তাহে লক্ষাধিক টাকার কারেন্ট জাল উদ্ধার করে এবং মরাগাঙ ও ফরখানালাসহ দুটি ছড়া থেকে অবৈধ বাঁশের বেড়া অপসারণ করেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা একেএম মহসীন বলেন, ‘অসাধু মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। মরাগাঙ থেকে ১০টি মাটির বাঁধ, ফরখানালা থেকে দুটি বাঁশের বেড়া ও কয়েকটি স্থান থেকে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের কারেন্টজাল অপসারণ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত