ফের ৩০ বিলিয়নে নামছে রিজার্ভ

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৩, ১২:২৪ এএম

বিদেশি ঋণের ছাড়, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় ইতিবাচক ধারায় ফেরায় চলতি অর্থবছরের শুরুতে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। কিন্তু চলতি সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধে আবারও ৩০ বিলিয়নে নেমে আসবে রিজার্ভ। সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করায় রিজার্ভে চাপ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, আইএমএফের শর্ত মেনে ডলারের বাজারভিত্তিক দর কার্যকর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বাড়বে আমদানি ব্যয়, প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতিতে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিনের ডলার সংকট ও টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে বিদেশি রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। চলতি সপ্তাহে (৫ জুলাই সম্ভাব্য) এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধ করতে হবে ১ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলার। এতে রিজার্ভ নেমে আসবে ৩০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বাদ দিতে হবে। তাহলে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দাঁড়াবে ২৩ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।

আকু হলো একটি আন্তঃদেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল ও পাকিস্তানের মধ্যকার লেনদেনের দায় পরিশোধ করা হয়। এ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি দুই মাস অন্তর সুদসহ আমদানির অর্থ পরিশোধ করে। ইরানের রাজধানী তেহরানে আকুর সদর দপ্তর। দায় পরিশোধের মতো রিজার্ভ না থাকায় গত অক্টোবরে আকু থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে চরম আর্থিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। তবে আইএমএফের হিসাবে ব্যবহারযোগ্য যে রিজার্ভ রয়েছে তা দিয়ে চার মাসের আমদানি ব্যয়ও মেটানো যাবে না। যদিও সংস্থাটির ঋণ বিতরণের শর্তে উল্লেখ করা আছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো ডলার রিজার্ভে সংরক্ষণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ কমপক্ষে ২৪ বিলিয়ন ডলারের ওপরে হতে হবে।

এদিকে, একধাপেই ডলারের দাম ২ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত সোমবার রিজার্ভ থেকে ৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে ডলারপ্রতি মূল্য ধরা হয়েছে ১০৮ টাকা ৮৫ পয়সা; অর্থাৎ এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এক বছর আগেও ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৯৩ টাকা থেকে কিছু বেশি।

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে হলে ডলারের দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই; অর্থাৎ বাজারে পণ্যের সংকট তৈরি না হয়ে যদি দাম বৃদ্ধি পায় তাহলে বাজার অস্থিতিশীল হয় না। আবার মানুষ তাদের সাধ্য অনুযায়ী ক্রয় কমিয়ে দেয়। ঠিক একইভাবে ডলারের সরবরাহ ঠিক রেখে দাম বৃদ্ধি করলে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হবে না। আবার বাজারে ডলারের চাপও কমে আসবে।

সোমবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানিকারকদের কাছে ডলারের দাম কোনোভাবেই ১০৯ টাকার বেশি রাখা যাবে না। আমদানি বিল নিষ্পত্তি ও আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রে অথরাইজড ডিলার ব্যাংকগুলো ডলার ক্রয়ের সর্বশেষ পাঁচ দিনের গড় মূল্যের চেয়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা বেশি স্প্রেড হিসেবে চার্জ করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে ডলারের দাম কোনোভাবেই ১০৯ টাকার বেশি হবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডলার ক্রয় এবং বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ টাকা কম-বেশি করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের বিল পরিশোধে কোনোভাবেই ১০৯ টাকার বেশি দরে ডলার বিক্রি করা যাবে না। তবে রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে আগের দর, অর্থাৎ ১০৮ টাকা ৫০ পয়সাই কার্যকর থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত