সংবাদ সম্মেলনে তাওহিদ হৃদয়

নেগেটিভ আলোচনা হয় না টাইগারদের ড্রেসিংরুমে

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৩, ০১:০৯ এএম

পেস দিয়ে ঘায়েল করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। উল্টো নিজেরাই ঘায়েল। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টাইগাররা ‍গুটিয়ে যায় মাত্র ১৬৯ রানে। পরে বৃষ্টি আইনে আফগানিস্তান জিতেছে ১৭ রানে। বৃষ্টির পাশাপাশি তামিম ইকবালদের ভুগিয়েছে আফগান বোলাররা। এটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই চট্টগ্রামেই টাইগাররা মাত্র ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারালে মেহেদী মিরাজ ও আফিফ হোসেন হাল ধরে জিতিয়েছিলেন দলকে।

এ দুই অলরাউন্ডার আজও ছিলেন দলে। কিন্তু প্রয়োজনের সময় জ্বলে উঠতে পারেননি। অন্যকেউ খাঁদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে পারেননি দলকে। আফগানদের স্পিন জুজু বাংলাদেশের কাছে নতুন কিছু নয়। তাই ম্যাচ শেষে সংবাদ উঠে এসেছিল এই প্রসঙ্গটিও।

হারের পর দলের প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন ব্যাটসম্যান তাওহিদ হৃদয়। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, দলের এমন বিপর্যয়ে হাল ধরার জন্য কাকে ভাবা হচ্ছিল?

জবাবে হৃদয় বলেন, ‘এরকম নেগেটিভ কোনো আলাপ আমাদের ড্রেসিংরুমে হয় না। অবস্থান কখন কী হবে, পরিস্থিতি কি চায় সেই হিসেবে আমরা পরিকল্পনা করি। আমাদের সবার চিন্তাভাবনা পজিটিভ আছে, সবার উপর আমাদের বিশ্বাস আছে যে, যে কোনো পরিস্থিততে ওখান থেকে আমরা ওভারকাম করবো ইনশাল্লাহ।’

উইকেট কঠিন ছিল কিনা? জানতে চাইলে হৃদয় বলেন, ‘আমার কাছে ওরকম মনে হয়নি। উইকেট অতটা কঠিন ছিল না। কিন্তু একটা সমস্যা হচ্ছিল, উইকেট কিছুটা নিচু হচ্ছিল, সকালে দুই রকম ছিল। আমি মনে করি আমরা যদি আরেকটু ভালো ব্যাটিং করতাম, তাহলে খেলার ছবিটা একটু বদলে যেত।’

তিনি যোগ করেন, ‘এর আগেও তো এরকম আমরাস ফেস করেছিলাম। সেদিন তো কেউ না কেউ এরকম খেলেছিল। যেমন শেষ সিরিজে মিরাজ ভাই ও আফিফ ভাই দুজন মিলে খেলাটা শেষ করেছিল। বিশ্বাস ছিল যে আজকেও ওখান থেকে একটা বড় পার্টারশিপ হবে, কিন্তু হয়নি। আশা করি ভবিষ্যতে এ রকম পরিস্থিতি এলে ওখান থেকে ভালো কিছু করব।’

আফগানিস্তানের আছে বিশ্বসেরা স্পিন অ্যাটাক। আর সেটাকে সমীহ করে সবাই। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। ম্যাচ শুরুর আগে বাংলাদেশের ভীতির জায়গাও ছিল সেটা। হৃদয়ে কণ্ঠেও ফুঁটে ওঠে সেটা, ‘ওরা তো বিশ্বের সেরা স্পিন সাইড। ম্যাচের আগে সাকিব ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিল যে ওদের সঙ্গে ভাল করলে যে কোন স্পিন অ্যাটাক খেলা সহজ হবে। কিন্তু এই সিরিজে ওদেরকে সামলানো বেশ চ্যালেন্জিং হবে। তবে এবার যেমনটা হয়েছে আশা করি সামনের ম্যাচ গুলোতে হবে না। আমাদের দলে যথেস্ট পরিপক্ক ক্রিকেটার আছেন তারা জানেন কিভাবে এমন পরিস্থিতি থেকে উঠে আসতে হয়।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ছিল না লড়াইয়ের ছিটেফোটাও। তবে হৃদয়ের আশা পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ, ‘আমরা এখান থেকে খুব ভালোভাবে কামব্যাক করবো। এখানে যে সিলি মিস্টেকগুলো আমরা করেছি, এগুলো যত কমানো যায় আমি মনে করি সিরিজ জেতা এখনো সম্ভব যদি আমাদের সেরাটা দিতে পারি। আমরা অনেকেই আজকে আমাদের সেরাটা দিতে পারিনি, শুধু এখান থেকে দুই-তিনজনে অবদান রাখতে পারি, আমরা ভালো কামব্যাক করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত