টাঙ্গাইল সখীপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন চাচা-ভাতিজা। একজন স্বতন্ত্র, অন্যজন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মনোনীত প্রার্থী। দু'জনই চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে চাইছেন ভোট। ভোটের মাঠে কেউই কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই।
টাঙ্গাইল জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম সরকার লাল। ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর তার ভাতিজা মিজানুর রহমান বড়চওনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনিও দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। পরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ তাকে দলে টেনে নিয়ে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে।
ভোটারদের ভাষ্য, চাচা-ভাতিজা দু'জন প্রার্থী হওয়ায় তারা কাকে ভোট দেবেন, এ নিয়ে পড়েছেন বিড়ম্বনায়। আত্মীয় স্বজনরাও রয়েছে চিন্তায়। তবে নির্বাচন পর্যন্ত ভোটারদের কাছে চাচা-ভাতিজার নির্বাচনী লড়াই বেশ উপভোগ্য হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাচা-ভাতিজাসহ অন্য প্রার্থীরা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভোটারদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার কমতি নেই যেন। সকাল থেকে মধ্যে রাত পর্যন্ত চলছে প্রচার-প্রচারণা। পাড়া-মহল্লায়, হাটবাজার সবখানেই ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছে কর্মীরা। শুধু দলীয় বিবেচনায় নয়, ব্যক্তি পরিচয়ে প্রার্থীরা ভোট পাবেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
এদিকে নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে আবদুল হালিম সরকার লাল বলেন, ‘জয়ের ব্যাপারে আমি শত ভাগ আশাবাদী। এ ক্ষেত্রে আমার ভাতিজা তেমন কোনো সমস্যা নয়। আমার সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
মিজানুর রহমান বলেন, চাচা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। আমার পক্ষে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীসহ দলীয় শতাধিক নেতা-কর্মী মাঠে রয়েছেন ও থাকবেন। চাচার পেছনে এখন কোনো দল নেই। তার কোনো শক্তিও নেই।
উপজেলার নবগঠিত চারটি ইউনিয়নে ১৭ জুলাই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বড়চওনা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মিজানুর রহমান গামছা প্রতীক নিয়ে ও তার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম সরকার লাল আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে আছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউসুফ আলী ভূঁইয়া নৌকা, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মোটরসাইকেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল গফুর সরকার চশমা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উপজেলা রিটার্নিং ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউল হক বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। সব প্রার্থীই সমান। চাচা-ভাতিজার নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই।
