ধারাবাহিক বাড়তে থাকা মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় লেনদেন কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ লেনদেন কম হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি বছরের মে মাসে মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। আগের মাস এপ্রিলে এই লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১৬ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো ঈদ বা অন্য কোনো উৎসব থাকলে লেনদেন বেড়ে যায়। এখানে প্রবাসী আয়ও আসে। পাশাপাশি শহর থেকে গ্রামে কেনাকাটায় মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টাকা পাঠিয়ে থাকেন। তবে উৎসবের পর কিছুটা কমে আসে। পরে আবারও বেড়ে যায়। এপ্রিল মাসে মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর হওয়ায় ওই মাসে লেনদেন অনেক বেশি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাইয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন হয়েছিল ৮৯ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। আগস্ট মাসে কিছুটা কমে লেনদেন হয়েছিল ৮৭ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। এরপরে সেপ্টেম্বরে ৮৭ হাজার ৬৩৫ কোটি, অক্টোবরে ৯৩ হাজার ১৩ কোটি, নভেম্বরে ৯২ হাজার ১২৫ কোটি এবং ডিসেম্বরে লেনদেন হয়েছিল ৯৬ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১ লাখ ৫৯৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এরপরে ফেব্রুয়ারি মাসে লেনদেন ৩ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা কমেছে। এই মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন হয়েছে ৯৭ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। এছাড়া মার্চ মাসে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল।
আলোচিত সময়ে (মে ২০২৩) মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় নিবন্ধিত হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি ৩৯ লাখ ৭০ হাজারে। এটি তার আগের মাস এপ্রিলে হিসাব সংখ্যা ছিল ২০ কোটি ৬ লাখ ৮৯ হাজার ২১০টি।
মে শেষে পুরুষ গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৪১ হাজার ৫২৮ জন। অপরদিকে নারী গ্রাহক ৮ কোটি ৫৪ লাখ ৯৭ হাজার ২২৯ জন। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৩৪০ জন। অতিদ্রুত শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে শহরে সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় মোবাইল ব্যাংকিং দেশের ব্যাংকিং সেবায় নতুন সম্ভাবনা এনে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে বিরাট এক গতি সঞ্চার করেছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এই সেবা। একইসঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে ১৩টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ, ডাচ-বাংলার রকেট, ইউসিবির ইউক্যাশ, নগদ, মাইক্যাশ, শিওর ক্যাশ ইত্যাদি। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে। এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১১ সালের ৩১ মার্চ ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সহপ্রতিষ্ঠান রকেট-এর মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু হয়। এরপর মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের যাত্রা হয় ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশের।
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে শুধু লেনদেন নয়, নতুন নতুন সেবাও যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো (রেমিট্যান্স) ইত্যাদি। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতনও এখন দেওয়া হচ্ছে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।
