অসুখ-বিসুখ, রোগ-বালাই, অভাব-দুর্ভিক্ষ সবকিছু সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর তরফ থেকে হয়। আবার তিনিই পথ বাতলে দিয়েছেন এসব থেকে বাঁচার। দয়াময় আল্লাহ চান না বান্দা কষ্ট পাক। কারণ আল্লাহতায়ালা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন তার বান্দাকে। সাধারণ মানুষ দুনিয়ার এর-ওর ভালোবাসায় গলে যায়, ভাবে সে আমাকে এত ভালোবাসে! অথচ আল্লাহতায়ালা যে তাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, সেটা মাথায় রাখে না। সে খবর মনে থাকে না।
মানুষের প্রতি এই ভালোবাসার কারণেই অসুস্থতার সময় আল্লাহতায়ালা নবী করিম (সা.)-এর মাধ্যমে সুস্থ থাকার উপায় বলে দিয়েছেন। আর নবী করিম (সা.) বাস্তবে তা আমল করে দেখিয়েছেন। আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগে নবী করিম (সা.) যা করেছেন, যা বলেছেন তা এখনকার বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যায়। আফসোসের কথা হলো, আমরা এ বিষয়ে জানি না, কিংবা জানার চেষ্টা করি না।
চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বর ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন ডেঙ্গু জ¦রাক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গু এডিস মশা বাহিত ভাইরাসজনিত একটি রোগ। এডিস মশা কামড়ালে ডেঙ্গু হয়। এডিস মশা যেন না জন্মায় সে ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ এডিশ মশার বংশবৃদ্ধি রোধের মাধ্যমে ডেঙ্গু জ¦র প্রতিরোধ করা যায়। এ জন্য বাড়ির আঙ্গিনা ও বসবাসের ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর বেশি জোড় দেওয়া হয়। ফুলের টবে, ফ্রিজের পেছনে বা বাড়ির কোণে পানি জমতে না দেওয়া, আশপাশের জায়গা নোংরা হতে না দেওয়া। শুধু নিজে কয়েকবার গোসল করে পরিষ্কার থাকাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নয়। নিজের আশপাশ পরিষ্কার রাখা। কোরআন মজিদে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা লোকদের প্রশংসা করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘সেখানে রয়েছে এমন লোক, যারা পবিত্রতাকে বেশি ভালোবাসে। আর আল্লাহ পবিত্র লোকদের ভালোবাসেন।’ সুরা তাওবা : ১০৮
এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত সালেহ ইবনে আবু হাসসান (রহ.) বলেন, আমি সাঈদ ইবনুল মুসাঈয়্যাব (রহ.)-কে বলতে শুনেছি, অবশ্যই আল্লাহতায়ালা পবিত্র এবং পবিত্রতা ভালোবাসেন। তিনি পরিচ্ছন্ন এবং পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন। তিনি মহান ও দয়ালু, মহত্ব ও দয়া ভালোবাসেন। তিনি দানশীল, দানশীলতাকে ভালোবাসেন। সুতরাং তোমরাও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থেক। আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, তোমাদের আশপাশের পরিবেশকেও পরিচ্ছন্ন রাখো এবং ইহুদিদের অনুকরণ করো না। সালেহ বলেন, আমি এ প্রসঙ্গে মুহাজির মিসমারের নিকটে বর্ণনা করলাম। তিনি বলেন, আমির ইবনে সাদ তার পিতার সূত্রে নবী করিম (সা.) থেকে একই রকম হাদিস আমার কাছে বলেছেন। তবে তিনি তাতে বলেছেন, তোমাদের আশপাশের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখো। জামে তিরমিজি : ২৭৯৯
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা লানতকারী (অভিশাপে আক্রান্ত হতে হয় এমন) দুটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! লানতকারী কাজ দুটি কী? তিনি বলেন, যে মানুষের চলাচলের রাস্তায় কিংবা গাছের ছায়ায় মলমূত্র ত্যাগ করে।’ সুনানে আবু দাউদ : ২৫
বর্ণিত হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, ইসলামের নির্দেশনা মানলে এডিস মশা জন্মাতে পারবে না। ডেঙ্গুও কমে যাবে। সেই সঙ্গে অন্য রোগ-বালাইও কম হবে। তা ছাড়া নিজ ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা নাগরিক দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে। যারা পরিষ্কার রাখে না, এ বিষয়ে সচেতন না তাদের এ বিষয়ে সচেতন করা দরকার। এই সচেতনতার কাজে সওয়াব মিলবে, প্রয়োজনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানেও অংশ নেওয়া। এটাও ভালো কাজ, সওয়াবের কাজ। এসব ভালো কাজের জন্য রয়েছে সওয়াব। যা পরকালের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
