নির্বাচনী কাঠামো পরিবর্তন না হলে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়: এবি পার্টি

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৩, ০৬:১৭ পিএম

নির্বাচনী কাঠামো পরিবর্তন না হলে, জনরায় প্রতিফলিত হওয়ার মতো সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য ভোট কখনোই সম্ভব নয় বলে মনে করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

শনিবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যালয়ে ইইউয়ের প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ।

ইইউ প্রতিনিধি দল এবি পার্টির কাছে আগামী নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর বাস্তবতা, উপকারিতা এবং সুপারিশ সম্পর্কে জানতে চান। এ বিষয়ে এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশে গত ১১টি সাধারণ নির্বাচনের ৪টি অনুষ্ঠিত হয়েছিল নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের অধীনে। এই নির্বাচনগুলো ছিল শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ৭টি নির্বাচন ছিল কলঙ্কিত ও প্রহসনমূলক, যা জাতি ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে আবারও দেখেছে।

সর্বদলীয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানে সংযোজিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ একতরফাভাবে বাতিল করে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে আদালতের সঙ্গেও প্রতারণা করা হয়েছে বলে মত দেন এবি পার্টি নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য গায়ের জোরে বাতিল করা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আবার ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরে এবি পার্টি নেতারা বলেন, ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সর্বদলীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক ‘রাজনৈতিক সমঝোতা’ তৈরি হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের একটি প্রহসনমূলক ও স্ববিরোধী রায়ের আলোকে সেই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার মধ্য দিয়ে সরকার তার নির্বাচনী ম্যান্ডেট ও শপথ ভঙ্গ করেছে। গণভোটের আয়োজন না করেই ৩০ জুন ২০১১ তে তাড়াহুড়া করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয় সরকার। সংসদীয় কমিটির সর্বসম্মত মতামতকেও উপেক্ষা করে তারা দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে যা বর্তমান রাজনৈতিক অচলায়তন ও সংকটের প্রধান কারণ।

আরও বলা হয়, স্বাধীনতা অর্জনের ৫২ বছরে বাংলাদেশ আজ সত্যিকারের যুগ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলের আগামীর বাস্তবতা উপলব্ধি করতে না পারলে বাংলাদেশ আবারও পথ হারাবে। স্বাধীন, উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দীর্ঘমেয়াদে কর্তৃত্ববাদী ধারার জিন্জিরে আবদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। যদি দেশে উত্তর কোরিয়া, কম্বোডিয়া আর বেলারুশের মত এক ব্যক্তি, পরিবার ও দলের স্বৈরাচারী শাসন অব্যাহত থাকে তাহলে আমরা যে মুক্তির লড়াই করে স্বাধীন হয়েছি, তা হারাতে হবে। তাই নির্বাচনী কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে গণরায় প্রতিফলনের পথ নির্বিঘ্ন করতে হবে। নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে, তা নাহলে, সত্যিকার অর্থে কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না। এসকল কারণে পর্যবেক্ষণের কোন সুফল দেশবাসী পাবে না বরং আবারও একটা অবৈধ ও অনির্বাচিত সরকারকে অন্যায্য বৈধতা দেওয়ার পথ পরিষ্কার করবে বলে এবি পার্টি মনে করে।

এবি পার্টির প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও ব্যারিস্টার যুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, সিনিয়র সহকারী সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম ও সহকারী সদস্য সচিব ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত