বুদ্ধিতে মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে এক্সএআই!

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৩, ০২:৩০ এএম

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর বিশে^র অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান এক্সআইয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় টুইটার স্পেসেস অনুষ্ঠানে মাস্ক আরও নিরাপদ এআই উন্নয়নে তার পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, এটা যদি মহাবিশে^র প্রকৃত রূপ বোঝার চেষ্টা করে, তাহলেই সেটা হবে এআইয়ের নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে সেরা উদ্যোগ। গত শুক্রবারও এক টুইটে মাস্ক বলেন, এক্সএআই নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তার নতুন কোম্পানিটির উদ্দেশ্য হচ্ছে মহাবিশ^কে বুঝতে পারা। মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান এ এআই তৈরি করতে ৫ থেকে ৬ বছর সময় লাগতে পারে বলে পূর্বাভাস দেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবেন ইলন মাস্ক। সঙ্গে থাকছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আসা প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস কর্মী বাহিনী। তাদের মধ্যে আছেন গুগলের সাবেক প্রকৌশলী ইগর বাবুশকিন ও টনি উ, গবেষণা বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান সেগেদি ও মাইক্রোসফটের সাবেক কর্মকর্তা গ্রেগ ইয়াং।

গত বছরের নভেম্বরে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি চালু হওয়ার পর জেনারেটিভ এআই নিয়ে উৎসাহ ও আগ্রহ অনেক বেড়েছে। ইলন মাস্ক এর আগে বেশ কয়েকবার বলেছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়নের রাশ টেনে ধরা দরকার এবং এই খাতের নীতিমালা প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়োগ দেওয়া জরুরি। মাস্ক এমনকি এআইকে ‘সভ্যতার ধ্বংস’ ডেকে আনার অভিযোগেও অভিযুক্ত করেন। তবে এক্সএআইর বিষয়ে তিনি বলেন, এআইকে নৈতিকতার শিক্ষা না দিয়ে বরং তিনি এক্সএআইর মধ্যে ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের কৌতূহল’ তৈরি করবেন।

মাস্ক বলেন, ‘আমার ধারণা, এটি মানবতার পক্ষেই থাকবে, কারণ সে বুঝতে পারবে, মানবতা না থাকার চেয়ে মানবতা থাকার বিষয়টি অনেক বেশি কৌতূহলোদ্দীপক।’ পৃথিবীর উৎপত্তি ও বিকাশ এবং সভ্যতার সীমাবদ্ধতাগুলো খুঁজে বের করতে তার মাথায় এক্সএআইয়ের কল্পনা আসে বলেও জানান মাস্ক।

চ্যাটজিপিটির মূল প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ইলন মাস্ক। কিন্তু ২০১৮ সালে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যনির্বাহী পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ওপেনএআইয়ের অন্যতম বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। মাস্ক বলেন, মাইক্রোসফট, গুগল এবং ওপেনএআইয়ের বিকল্প হিসেবে তিনি একটি কার্যকর এজিআই তৈরি করতে চান। এজিআই বা আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্সের সঙ্গে এআইয়ের তফাত হলো, এই প্রযুক্তি আরও উন্নত এবং মানুষের মতোই নিজে নিজে সমস্যার সমাধান করতে কিংবা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত