বাজে ব্যাটিংয়ের খেসারত

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৩, ১২:৪৫ এএম

ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ হবে, আর সেই ম্যাচে রেফারিং বা আম্পায়ারিং নিয়ে কোনো বিতর্ক হবে না এমনটা বিরল। এসিসি ইমার্জিং এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারত-বাংলাদেশের সেমিফাইনালটাও আরেকটা উদাহরণ হয়েই থাকল। বেশ কিছু ক্ষেত্রে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ছিল প্রশ্নবিদ্ধ, তারপরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দলটা ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছে ৫১ রানে হেরে যেভাবে বিদায় নিল, তাতে বেশ কিছু ক্রিকেটারের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের স্বপ্নটা নিশ্চিতভাবেই রঙ হারাল।

বাংলাদেশ দলের একাদশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পাওয়া সাতজন। কেউ অভিষেকে শতরান করেছেন, কেউ ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলেছেন! অন্যদিকে ভারতের দলটা আক্ষরিক অর্থেই উদীয়মান, ২০২২ সালের যুব বিশ্বকাপ খেলা দলটার বেশিরভাগই আছেন এই দলে। কারোরই আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়নি, কয়েকজন খেলেছেন আইপিএলে। এমন একটা দলকে মাত্র ২১১ রানে আটকে ফেলার পরও রানটা ৫০ ওভারে তাড়া করতে পারল না বাংলাদেশ। অথচ দলে বাঘা বাঘা সব ব্যাটসম্যান! মোহাম্মদ নাঈম টেস্ট-ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে খেলেছেন ৪০টা আন্তর্জাতিক ম্যাচ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সবশেষ মৌসুমে সর্বোচ্চ রান এ বাঁহাতির। ৪০ বলে ৩৮ রান করে বোল্ড হয়েছেন মানভ সুথার বামহাতি স্পিনে, যে ধরনের বোলিংটা ঘরোয়া ক্রিকেটে সবসময় খেলেন নাঈম বা বাংলাদেশের অন্য যেকোনো ব্যাটসম্যান। ২১২ রান তাড়ায় প্রথম উইকেটের পতন দলীয় ৭০ রানে, দ্বিতীয় উইকেটের পতন ৯৪ রানে এবং এরপর আত্মাহুতির পালা। ব্যাটসম্যানরা এলেন আর গেলেন। ২ উইকেটে ৯৪ থেকে ১৬০ রানেই অলআউট বাংলাদেশ, মাত্র ৩৪.২ ওভারে। মাত্র ৬ রানে পতন হয়েছে শেষ ৪ উইকেটের।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অধিনায়ক সাইফ হাসান জানালেন, তাড়াহুড়ো করে খেলতে গিয়েই এ হতাশাজনক ফল, ‘সবকিছুই পরিকল্পনামাফিকই হচ্ছিল। কিন্তু মাঝে সব ধসে গেল। আমরা সবাই খুব তাড়াহুড়ো করে শট খেলেছি। উইকেটে গিয়ে খানিকটা সময় নিয়ে খেললে হয়তো অন্যরকম কিছু হতে পারত, কিন্তু এখন ম্যাচটা আমরা হেরে গেছি।’

এই একই সূত্র খাটিয়েই রানটা করেছে ভারত। ৪ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট হারানোর পর ভারত ‘এ’ দলের অধিনায়ক ইয়াশ ধুল একটা প্রান্ত আগলে রেখে খেলেছেন ৮৫ বলে ৬৬ রানের ইনিংস। আউট হয়েছেন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে। অন্যপ্রান্তে আসা-যাওয়ার মিছিলের মাঝে নবম ও দশম ব্যাটসম্যান মানব সুথার আর রাজবর্ধন হঙ্গারগেকারের সঙ্গে কার্যকর জুটি গড়ে দলীয় সংগ্রহটাকে দুইশো পার করিয়েছেন ইয়াশ ধুল। ম্যাচ শেষে বলছিলেন, ‘চেষ্টা করেছি খেলাটা যতটা সম্ভব লম্বা করা যায়, শেষ পর্যন্ত থাকা যায়। এই উইকেটে ব্যাটিং করাটা সহজ ছিল না।’

বাংলাদেশ খারাপ ব্যাটিং করেছে নিঃসন্দেহে, তবে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত প্রদান ছিল তার চেয়েও দৃষ্টিকটু। নিকিন জোসের বিপক্ষে স্টাম্পিংয়ের আবেদনের পর টিভি আম্পায়ার দেখে আউট দিয়েছেন। কিন্তু মুহূর্তেই আবার রিপ্লে দেখে নটআউট দিয়েছেন, অথচ ব্যাটসম্যানের পা স্টাম্প ভাঙার সময় হাওয়ায় ভাসছে! ক্ষেপে গিয়ে আকবর আলী তো লেগ আম্পায়ারের দিকে চেঁচিয়েই বলেছেন, ‘উনাকে (থার্ড আম্পায়ার) ঘুম থেকে উঠতে বলুন স্যার!’ সৌম্য সরকারের বিপক্ষে লেগ বিফোরের আবেদন হয়েছিল যুবরাজসিং দুধিয়ার বলে, উইকেটের পেছনে বলটা লুফলেন সেই নিকিন জোসে। আম্পায়ার দিলেন ক্যাচ আউট। মাঠে দাঁড়িয়ে হতবাক সৌম্য দেখছিলেন ভারতীয়দের উল্লাস, হারশিত রানা তার সামনে এসে জোরেই যেন উল্লাস প্রকাশ করলেন। সেখানেই তার সঙ্গে খানিকটা উত্তপ্ত বাক্যালাপ সৌম্যের। ৩ বলে ৫ রান করে বিদায় সৌম্যর। অথচ সুযোগ ছিল নায়ক হওয়ার, ম্যাচটা জেতানোর। আউট হলেন ২৬তম ওভারে, দলের রান তখন ১৩০। জয়ের জন্য ২৪ ওভারে লাগত ৭২ রান, ওভারপ্রতি মাত্র ৩ রান করে। অথচ পারলেন না সৌম্য, যেটা হতে পারত এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলে ফেরার দাবি জোরালো করার ইনিংস। আকবর আলীর গোটা সফরটাই কাটল হতাশায়। তিন ম্যাচে করেছেন ৬ রান মাত্র, কাল নিকিন জোসের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন ২ রান করে। অথচ সেই ২০২০ সালের পচেফস্ট্রুমের মতো একটা ইনিংস প্রত্যাশিত ছিল তার কাছে।

প্রত্যাশার দাবি মেটাতে পারেননি কেউই, তাই তো প্রায় ১৫ ওভার খেলা বাকি থাকতেও ৫১ রানের দূরত্ব মেটানো গেল না। ১৬০ রানেই অলআউট বাংলাদেশ, ৫ উইকেট নিশান্ত সিন্ধুর।

অন্য সেমিফাইনালে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে ৬০ রানে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান ‘এ’ দল। আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৩২২ রান করে পাকিস্তান, জবাবে শ্রীলঙ্কা ৪৫.৪ ওভারে অলআউট ২৬২ রানে। ৫ উইকেট আরশাদ ইকবালের। রবিবার কলম্বোতে ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত