পাকিস্তানের আগামী সাধারণ নির্বাচন যথাসময়ে হবে বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। ইসিপি সচিব ওমর হামিদ খান ও বিশেষ সচিব জাফর ইকবাল হুসেইন গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যদি ১২ আগস্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে জাতীয় এবং দুটি প্রাদেশিক পরিষদ ভেঙে দেওয়া না হয় তবে ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। ইতিমধ্যে বর্তমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে ইসিপি সচিব ও বিশেষ সচিব জানান, নির্বাচন ৬০ বা ৯০ দিনের মধ্যে করতে ইসিপি পুরোপুরি প্রস্তুত। জাফর ইকবাল হুসেইন বলেন, জেলা রিটার্নিং অফিসার (ডিআরও) এবং রিটার্নিং অফিসার (আরও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অব্যাহতি দিতে বিচার বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে। ব্যালট পেপারের জন্য ওয়াটারমার্ক পেপার সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সামগ্রীও সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা এবং ভোটগ্রহণ কর্মীদের তথ্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি ব্যালট পেপার ও মনোনয়নপত্র ছাপার জন্য প্রেসের সঙ্গে সমন্বয় সম্পন্ন করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে জাফর ইকবাল নির্বাচনী মহড়ার আগে নির্বাচনী এলাকার নতুন সীমানা নির্ধারণের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, আগের আদমশুমারি ও সীমানা অনুযায়ী নির্বাচন হবে। তার ভাষ্য, পার্লামেন্টের অনুমোদিত নির্বাচনী সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিগগিরই নির্বাচন হবে।
নির্বাচনী প্রার্থীদের আইনে নির্ধারিত ব্যয়ের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হুসেইন বলেন, একটি মনিটরিং মেকানিজমের মাধ্যমে যারা আইন লঙ্ঘন করছে, তাদের ওপর নজরদারি করা হবে।
ইসিপি সচিব ওমর হামিদ খান নির্বাচনে কালো টাকা ব্যবহার সম্পর্কে একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কালো টাকা কয়েক দশক ধরে আমাদের ব্যবস্থাকে জর্জরিত করছে। তবে রাতারাতি সংশোধন করা সম্ভব নয়। এ সমস্যা সমাধানের জন্য কর আইনের উন্নতি করা দরকার।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। জানান, বিষয়টি বিচারাধীন।
