অনিশ্চিত সুন্দরের খেলা ক্রিকেটে শেষ বলের আগ পর্যন্ত নিশ্চিত বলে কিছু নেই। মিরপুরে কাল আবার সেই প্রবাদ ফিরে এলো। বাংলাদেশ পুরুষ দল অনেক সময় শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ উপহার দিয়েছে। স্নায়ুক্ষয়ী সেসব ম্যাচে কখনো হেসেছে দেশ আবার কেঁদেছেও। নারী ক্রিকেটাররা প্রথমবার এমন শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ উপহার দিল কাল। ফাইনালে পরিণত সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে ২২৫ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ২২৫ রানে পৌঁছানো ভারতের শেষ উইকেট তুলে নেন বোলাররা ৫০তম ওভারের চতুর্থ বলে। আইসিসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজের বাইলজে সুপার ওভারের বিধান নেই বলে ‘টাই’ ভাঙার চেষ্টা করা হয়নি। ম্যাচে সমতার মতো সিরিজও সমতায় (১-১) শেষ হলো।
৩ সিরিজের ৯ ম্যাচ শেষে ১ জয়, ৩ হার, ৩টি পরিত্যক্ত ও ১ টাই থেকে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ৭। ১০ দলের মধ্যে বাংলাদেশ দলের অবস্থানও ৭ নম্বরে।
ভারতের ইনিংসে হারলিন দেওল ও স্মৃতি মান্দানা যখন ব্যাট করছিলেন ২২৫ রান তাড়া সফরকারীদের জন্য সহজ হয়ে উঠছিল। ৩২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ১০৭ রানের জুটি গড়েন দুজনে। মান্ধানা ৮৫ বলে ৫৯ করে ফাহিমা খাতুনের বলে ক্যাচ আউট হয়ে ফেরেন। ম্যাচে ফেরার এই সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক হারমানপ্রিতকে নিয়ে হারলিন আরও একটি জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও নাহিদা আক্তারের বলে সিøপে ক্যাচ হয়ে ফেরেন। কিন্তু এই আউট নিয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন ভারত অধিনায়ক। সিদ্ধান্ত মনঃপূত না হওয়ায় রাগে স্ট্যাম্প ভেঙে ফেলেন ব্যাট দিয়ে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অবশ্য আউট বিতর্ক পেছনে ফেলে বাংলাদেশ বোলাররা দারুণভাবেই এগিয়ে গেলেন। সময়ে সময়ে উইকেট নিয়ে জুটি গড়তে দেননি ভারতকে। শেষদিকে দুই ওভারে চার উইকেট হারিয়ে একেবারে কাবু হয়ে যায় অতিথিরা। ৪২তম ওভারে হয় দুটি রানআউট। আর ৪৮তম ওভারে ৯ রান বাকি থাকতে নাহিদা স্নেহা রানা ও দেবিকা বিদ্যাকে নিজের ক্যাচ বানিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন। শেষ উইকেটে ভারত ২২৫ রানে পৌঁছলেও মারুফার শেষ ওভারের চতুর্থ বলে কাট করতে গিয়ে মেঘনা উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে উল্লাসে ফেটে পড়েন জ্যোতিরা।
এর আগে বাংলাদেশ নারী ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হয়েছেন ফারজানা হক। এ সিরিজ জুড়েই রান পাচ্ছিলেন তিনি। সেই ধারবাহিকতাকে টেনে ইতিহাসে রূপ দিলেন। ছেলেদের ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান যেমন মেহরাব হোসেন অপি, মেয়েদের ক্রিকেটে দেশের হয়ে সেই উচ্চতায় উঠলেন ১৬০ বলে ৭ চারে ১০৭ করা ফারজানা। বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতেও একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান এই ব্যাটার। নিজের ইতিহাসের দিনে শামিমা সুলতানার (৫২) সঙ্গে ৯৩ ও দ্বিতীয় উইকেটে নিগার সুলতানা জ্যোতির (২৪) সঙ্গে ৭১ রানের জুটি গড়েন। শেষে চতুর্থ উইকেটে ২৩ রান করা সোবহানা মোস্তারিকে নিয়ে গড়েন ৫৬ রানের ইনিংস। শেষ ওভারে রান আউট না হলে ব্যাট ক্যারি করার রেকর্ডটিও গড়তেন ফারজানা।
ব্যক্তি রেকর্ড না হোক, বাংলাদেশ নারী দল দলীয় রেকর্ড গড়েছে। ভারতের সঙ্গে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস হয়তো হয়ে ওঠেনি তবে দেশের মাটিতে ভারতকেও তো জিততে দেয়নি জ্যোতিরা।
