সরকারি ওয়েবসাইট

তথ্য ফাঁসের ঘটনায় কাউকে দায়ী করেনি তদন্ত কমিটি

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৩, ০২:১১ এএম

সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েবসাইট থেকে কতসংখ্যক নাগরিকের তথ্য ফাঁস হয়েছে বা উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল, সে সম্পর্কে কোনো ধারণাই দিতে পারেনি এ ঘটনার তদন্তে গঠিত তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কমিটি। এ ছাড়া কাদের কাদের তথ্য ফাঁস হয়েছে, সেটাও জানা যায়নি। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর (সিআইআই) আওতাভুক্ত এ ওয়েবসাইটে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত অবস্থায় রাখার জন্য কাউকে দায়ীও করেনি তদন্ত কমিটি। এমনকি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়নি।

এসব তথ্য জানিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। তথ্য ফাঁস হওয়ার বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে গতকাল সোমবার ঢাকার আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পর্যালোচনা সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তদন্ত কমিটিতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিজিডি সার্টের কর্মকর্তারা ছিলেন এবং তারা ‘ঐক্যমতের ভিত্তিতে’ প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার মূল কারণ যেটা কমিটি বলেছে তা হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন ওয়েবসাইটের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের কারিগরি দুর্বলতা। যথাযথ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন লোকবল না থাকায় তাদের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনগুলো যথাযথভাবে তদারকি করা হয়নি। ওই দপ্তরের অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমে কোনো লগ ফাইল সংরক্ষণ করা হয় না।’

তথ্য ফাঁসের ঘটনায় কাউকে শাস্তি দেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে কাউকে শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ আসেনি। এখানে আসছে যে একজন মাত্র প্রোগ্রামার এ পুরো ইনফ্রাস্ট্রাকচারটা (পরিকাঠামো) দেখে বুঝে নিয়েছে ভেন্ডরের (নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান) কাছ থেকে। আমাদের তদন্ত কমিটির সুপারিশে কাউকে কোনো আর্থিক বা আইনগত শাস্তির সুপারিশ করা হয়নি।’

যারা (ভেন্ডর) ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছেন, তাদের কোনো দুর্বলতা বা অবহেলা ছিল কি না, জানতে চাইলে পলক বলেন, ‘এটা ওই প্রতিষ্ঠান বলতে পারবে। উই আর নট দ্যাট অথরিটি। আমরা সুপারিশটা করছি ওই সংস্থার যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে। এটা একটা প্রযুক্তিগত তদন্ত রিপোর্ট। কোনো কারণে সাইটটা উন্মুক্ত হয়ে পড়ল, তারা শুধু সেটুকু বলেছে। এ ধরনের ঘটনা যাতে আগামীতে না ঘটে তার জন্য তারা কিছু সুপারিশও দিয়েছে। এখন আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও সচিবকে সুপারিশটা পাঠাব।’

নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষার জন্যই সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করার কথা বলে আসছে, অথচ এত বড় তথ্য ফাঁসের ঘটনার পর এখনো কোনো মামলা হয়নি। এ বিষয়ে কোনো ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যাব না, কারণ আমরা তো পুলিশ না। এফআইআর করার সুযোগ আছে যে ক্ষতিগ্রস্ত তার অথবা পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করতে পারে।’

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন। গত ৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চে বাংলাদেশের সরকারি একটি ওয়েবসাইট থেকে লাখ লাখ নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার খবর প্রথম প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ভিক্টর মার্কোপোলোস দেখতে পান যে বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পূর্ণ নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত হয়ে আছে ইন্টারনেটে। এরপর ১১ জুলাই সরকারের ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির মহাপরিচালককে প্রধান করে আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদের সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত