ডেপুটি স্পিকারসহ ১৩ এমপি জামায়াত নেতার বাড়িতে!

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৩, ০১:৫৬ এএম

পাবনায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বাড়িতে ডেপুটি স্পিকার এবং সংরক্ষিত নারী আসনের ১১ জন সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের ১৩ জন সংসদ সদস্য আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে তারা ঈশ্বরদী পৌর শহরের ইসলামপুরে (ভুতেরগাড়ি) ঈশ্বরদী পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম আজমের বাসভবনে খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম নেন। এ ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শোয়াইবের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে গতকাল সকালে ঈশ্বরদী যান ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু। তার নেতৃত্বে প্রকল্প এলাকায় আসেন সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান বিশ্বাস, শাহিন আক্তার, খালেদা খানম, শিরিন আহমেদ, জিন্নাতুল বাকিয়া, বাসন্তি চাকমা, শামসুন্নাহার, নার্গিস রহমান, মনিরা সুলতানা, নাদিরা ইয়াসমিন জলি, রতœা আহমেদ, সেলিনা ইসলাম, সালমা চৌধুরী এবং মোছা. ডরথী রহমান।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজের বিস্তারিত অবহিত হয়ে তারা স্থানীয় জামায়াত নেতা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান আরআরপি গ্রুপের মালিক গোলাম আজমের পৈতৃক বাড়িতে দুপুরে খাবার খেতে যান। সেখানে বিশ্রাম শেষে ফেরার সময় আরআরপি ফিড মিলের আঙিনায় একটি গাছের চারাও রোপণ করেন এই সংসদ সদস্যরা। তাদের আপ্যায়ন ও আতিথেয়তা দেন ঈশ্বরদী পৌর জামায়াতের আমির গোলাম আজমসহ আরআরপি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে সংসদ সদস্যরা পাবনা সার্কিট হাউজে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সমাবেশে যোগ দিতে ঈশ্বরদী ত্যাগ করেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, ‘আরআরপি গ্রুপের মালিক গোলাম আজম, মনসুর আলম, মনিরুল আলম, আজমত আলম চার ভাই। গোলাম আজম ঈশ্বরদী পৌর জামাতের আমির বলেই জানি। সেখানে মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়রা আমন্ত্রিত ছিলেন জেনে আমিও সেখানে গিয়েছিলাম।’ তবে এটি রাজনৈতিক কোনো অনুষ্ঠান ছিল না দাবি করে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করা তার জন্য বিব্রতকর বলে উল্লেখ করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জামায়াত নেতা গোলাম আজমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে আরআরপি গ্রপের পরিচালক ও গোলাম আজমের ভাতিজা রফিকুল আলম বলেন, ‘ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু আমার মামা। আমাদের আমন্ত্রণে তিনিসহ এমপি মহোদয়রা আমাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসেছিলেন। দুপুরে খাওয়া শেষে বিশ্রাম নিয়ে তারা চলে গেছেন।’

পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা ইকবাল হোসাইন গোলাম আজমের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করি, সেখানে রাষ্ট্রের এমপি, মন্ত্রী পর্যায়ের লোকজন আসতেই পারেন।’

এদিকে একসঙ্গে এত সংসদ সদস্যের জামায়াত নেতার বাড়িতে আগমনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে। এ বিষয়ে পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব বলেন, ‘এত জায়গা রেখে সরকার দলীয় এমপিদের খাওয়ার আর জায়গা ছিল না। জামায়াত নেতার বাড়িতে খেতে হবে! বিষয়টি লজ্জাজনক।’

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বলেন, ‘এমপিদের আগমনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যবস্থাপনায় খাবারের আয়োজন ছিল। এ বিষয়ে তিনিই ভালো জানেন।’

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য (পাবনা-৪) নুরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের সফর ও খাবারের বিষয়টি জাতীয় সংসদের ব্যবস্থাপনায় হয়েছে। তাদের আমন্ত্রণেই আমি রূপপুর প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। আরআরপি গ্রুপের নিমন্ত্রণ পেলেও আমি সেখানে না গিয়ে জরুরি কাজে ঢাকায় চলে এসেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত