কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমে ফিন্যান্স বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী ফুলপরী খাতুনকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের এক বছরের বহিষ্কারাদেশ বাতিল করে নতুন শাস্তি আরোপের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। ছাত্রী নির্যাতনের ওই ঘটনায় এক বছরের শাস্তি যথাযথ না হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া মেনে নতুন করে শাস্তির এ আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আদেশ প্রতিপালন করে আগামী ২৩ আগস্ট এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের কক্ষে অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক শেষে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ও তার চার সহযোগীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সানজিদা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি (পরে বহিষ্কৃত) ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী। বহিষ্কৃত অন্য চার শিক্ষার্থী হলেন চারুকলা বিভাগের হালিমা আক্তার ঊর্মি, আইন বিভাগের ইসরাত জাহান মিম, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তাবাসসুম ইসলাম ও একই বিভাগের মুয়াবিয়া জাহান। পাঁচজনকে বহিষ্কারের বিষয়টি গত ১৯ জুলাই হাইকোর্টকে অবহিত করা হয়। ওইদিন রিট আবেদনকারী আইনজীবী শুনানিতে পাঁচজনের শাস্তিকে লঘু উল্লেখ করে তা আইন ও বিধিসম্মত হয়নি বলে প্রশ্ন তোলেন। আদালত বহিষ্কারের এ শাস্তির ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জানতে চায়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল আবারও বিষয়টি শুনানিতে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী গাজী মো. মহসিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।
অ্যাডভোকেট গাজী মহসিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিয়ম হলো ভিসি (উপাচার্য) শাস্তি নির্ধারণ করবেন। তবে তিনি (ভিসি) চাইলে বিষয়টি ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে পাঠাবেন। তখন কমিটি অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব বাতিলের (স্থায়ী বহিষ্কার) মতো শাস্তির ক্ষমতা রাখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইনে (কোড অব কন্ডাক্ট অব স্টুডেন্ট, ১৯৮৭) এ ধরনের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তির কথা বলা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি মানে স্থায়ী বহিষ্কার। বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদনে বলেছে, তারা সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছে। কিন্তু এক বছরের জন্য বহিষ্কার তো সর্বোচ্চ শাস্তি নয়। অপর্যাপ্ত শাস্তি হওয়ায় আদালত এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ সিদ্ধান্তটি বাতিলের আদেশ দিয়ে আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের শাস্তি নির্ধারণ করতে বলেছেন হাইকোর্ট।’
গত ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে সানজিদা চৌধুরী ও তার অনুসারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে ফুলপরীর ওপর নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ ওঠে। রাতভর নির্যাতনের পর ওই ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন উল্লেখ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে প্রতিকারের আরজি জানান উচ্চ আদালতের তিন আইনজীবী। হাইকোর্ট ১৬ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত করতে একজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক এবং প্রশাসন ক্যাডারের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের করা কমিটির প্রতিবেদনও দাখিল করতে বলে আদালত।
