বগুড়ায় বৃষ্টির দেখা নেই আমনের ক্ষেত চৌচির

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৩, ০২:০০ এএম

শ্রাবণেও বগুড়ায় বৃষ্টির দেখা মিলছে না। অনাবৃষ্টি এবং রোদের তাপে আমনের ক্ষেতগুলো শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির দেখা না মেলায় আমনের আবাদ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বৃষ্টি না হওয়ায় প্রতিবিঘা জমিতে আমন আবাদে খরচ বাড়বে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা।

বগুড়ার সদরের শাখারিয়া গ্রামে গত সোমবার গিয়ে দেখা যায়, তীব্র রোদে আমনের ক্ষেতগুলো চৌচির হয়ে গেছে। ওই গ্রামের কৃষক খোকা মিয়া জানান, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে আমনের আবাদ করা হয়। এতে খরচ কম হয়। কিন্তু এবার খরায় জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, বৃষ্টির দেখা মিলছে না। এভাবে চলতে থাকলে বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ হবে। এতে করে ধানের উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, তা বুঝতে পারছেন না তিনি।

বগুড়া সদরের উলিপুর, শেখেরকোলা, পীরগাছা, ফাপোর, সাবগ্রাম এলাকার অনেক কৃষকরা জানান, সাধারণত আমনের জমি প্রস্তুতের জন্য বিঘাপ্রতি ব্যয় হয় দুই হাজার টাকা। কিন্তু এবার আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় অতিরিক্ত ৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। আমন ধান চাষে সেচের দরকার হয় না। বৃষ্টির পানিতেই আমন চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু এবার বিঘাপ্রতি সেচের জন্য অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা খরচ হবে। এতে করে বিঘাপ্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ বেড়েছে।

গাবতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, এবার খরার কবলে পড়ে আমন চাষাবাদ ব্যাহত হতে চলেছে। বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকদের বাড়তি সেচ দিয়ে আমনের আবাদ করতে হচ্ছে। এতে আমন আবাদে লাভ এবার কম হবে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবার জেলায় ১ লাখ ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পুরো আগস্ট মাসে আমন ধান রোপণ করা হবে। জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ গভীর ও অগভীর নলকূপ রয়েছে। বৃষ্টি না হলে আমন আবাদে ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত এসব নলকূপ দিয়ে সেচ দিতে প্রায় ২৩৩ কোটি টাকা বাড়তি খরচ হবে।

জেলার কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মতলুবর রহমান বলেন, এবার লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। জেলার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ রয়েছে। আবহাওয়া বৈরী থাকলেও আমন চাষ হবে। মৌসুমে কৃষকদের হয়তো দুয়েকবার নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিতে হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত