মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে বালুবাহী নৌযানের (বাল্কহেড) ধাক্কায় পিকনিকের ট্রলার ডুবে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও অন্তত ৫ জন। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের রসকাঠি গ্রামসংলগ্ন ডহরী খালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১ নারী, ৪ শিশু ও ৩ যুবক।
দুর্ঘটনার পর ডুবে যাওয়া ট্রলারটির ৩৩ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের লৌহজং স্টেশন অফিসার আব্দুল মতিন।
তিনি বলেন, ‘সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত মানুষ ট্রলার দিয়ে পদ্মা নদীতে ঘুরতে যান। ঘোরাঘুরি শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়িতে ফেরার পথে ট্রলারটির সঙ্গে বালুবাহী বাল্কহেডের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন খবর দিলে আমরা ঘটনাস্থলে এসে ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করি। তবে এখনো আরও ৫ জন নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা চলছে।’
ডুবে যাওয়া ট্রলারটির উদ্ধার পাওয়া এক যাত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমরা ৪৬ জন পদ্মায় ঘুরতে যাই। পদ্মায় ঘোরাফেরা করে বালিগাঁওয়ের ডহরী খাল দিয়ে রাত ৮টার দিকে বাসায় যাচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ করে বেপরোয়া গতির বালু বহনকারী অবৈধ বাল্কহেড এসে ধাক্কা দেয়। পরে আমাদের ট্রলারটি ডুবে যায়। আমরা কেউ কেউ অনেকে সাঁতার দিয়ে পারে চলে যাই। তবে বেশ কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।’
ঘটনাস্থল থেকে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার কয়েস আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ট্রলারটি এখনো উদ্ধার হয়নি। পানির নিচে ডুবে আছে। ধারণা করা হচ্ছে ট্রলারের ভেতরে নিখোঁজ কাউকে পাওয়া যাবে। খালটিতে স্রোতের তীব্রতা ও অন্ধকার থাকায় ডুবুরিদের উদ্ধার তৎপরতায় বিঘœ ঘটছে। তবে আশা করছি নিখোঁজ সবাইকে উদ্ধার করতে সক্ষম হব।’
