ডেঙ্গুতে ১০ মৃত্যুর দিনে সর্বোচ্চ ভর্তি ২৭৬৪ রোগী

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৩, ০১:৫৫ এএম

গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে চলতি বছরের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড হয়েছে। এ সময় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৭৬৪ জন রোগী। এর আগে এক দিনের সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭৩১ জন রোগী ভর্তির রেকর্ড ছিল গত ৩০ জুলাই। সে দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৩ জন রোগী বেশি ভর্তি হয়েছে।

এ নিয়ে এখন পর্যন্ত চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৬৬ হাজার ৭৩২ জনে। তাদের মধ্যে এ মাসের প্রথম ছয় দিনেই ভর্তি হয়েছে ১৪ হাজার ৯০০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ১০ জন মারা গেছে। গত চার দিন ধরে এই সংখ্যক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে ৩১৩ জনের মৃত্যু হলো। আগস্টের প্রথম ছয় দিন থেকে এ পর্যন্ত ৬২ জনের মৃত্যু হলো।

নতুন রোগীদের মধ্যে ঢাকার বাইরে বেশি ভর্তি হয়েছে। এই সংখ্যা ১ হাজার ৬৮৬ জন। ঢাকায় ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৭৮ জন। বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৯ হাজার ৩৪৭ রোগী ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৪ হাজার ৬০৫ এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় ৪ হাজার ৭৪২ জন।

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্ত বেশি মধ্যবয়সীরা : আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর প্রায় সব বয়সেরই মৃত্যু হচ্ছে। তবে মধ্যবয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। আর আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুহার সর্বাধিক বয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে। এ ছাড়া ঢাকায় শিশুদের আক্রান্তের হার বাইরের তুলনায় বেশি। মৃত্যুর হার বিবেচনায়ও এগিয়ে রাজধানী ঢাকা।

গতকাল রবিবার অধিদপ্তরের এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, রোগীর সংখ্যা এতদিন বেড়েছে এবং সে জায়গায় স্থিতিশীল রয়েছে। যখন এ স্থিতিশীলতা থেকে রোগী কমার দিকে যাবে, তখন হাসপাতালগুলোতে চাপ কমবে। তবে তার আগ পর্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকতে হবে।

ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রস্তুতির তথ্য জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হলে যেন সঠিক সেবা পেতে পারে, এ বিষয়ে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বাড়িয়ে সবার সহযোগিতায় এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারব।

পরিস্থিতি উন্নতির আশা প্রকাশ করে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, জুনের তুলনায় জুলাই মাসে আক্রান্তের হার প্রায় আট গুণ বেশি ছিল। চলতি আগস্ট মাসেও সে ধারা অব্যাহত রয়েছে ও কিছুটা বেড়েছে। রাজধানীর বাইরে এই ধারা কিছুটা বেশি, তবে ঢাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমান স্থিতিশীল অবস্থা বজায় থাকলে এটি সংক্রমণের পিকে পৌঁছে কমে আসবে বলে আশা করছি।

স্যালাইন সংকটের দায় একা নিতে চায় না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর : গতকালের সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘স্যালাইনের ব্যাপারটি শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওপর নির্ভরশীল নয়। এ বিষয়ে ওষুধ কোম্পানি, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরসহ অন্য সংস্থাগুলোরও বড় ভূমিকা আছে। আমাদের বেসরকারি বড় একটা সেক্টর রয়েছে। সেখানে বড় একটা কো-অর্ডিনেশন প্রয়োজন। আমার মনে হয় সেই লক্ষ্যে আমাদের মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত