যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাকের অন্যতম প্রধান আমদানিকারক। গত পাঁচ বছরে (২০১৭-২০২২), বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র পোশাক আমদানি ১৪ শতাংশ বাড়িয়েছে। দেশটির পোশাকের বাজারে তিন নম্বরে থাকলেও গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। ২০২২ সালে সারা বিশ^ থেকে দেশটি মোট আমদানি বাড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান অটেক্সা এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন সরকারের অফিস অফ টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) নিয়মিতভাবে টেক্সটাইল এবং পোশাক খাতের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। অটেক্সা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন প্রতিষ্ঠান, মার্কিন টেক্সটাইল, পোশাক, পাদুকা এবং ভ্রমণ পণ্য শিল্পের দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উন্নতির জন্য প্রোগ্রাম এবং কৌশলগুলো পরিচালনা করে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২২ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করে, যা আগের বছরের চেয়ে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। ২০২১ সালে ৮১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানির ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশই বাংলাদেশের। বাংলাদেশ এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তৃতীয় বৃহত্তম পোশাকের উৎস। ২০২১ সালে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০২২ সালে দেশটিতে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
অটেক্সা জানায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০২২ সালে বাংলাদেশ থেকে ৯ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, ২০২১ সালে যা ছিল ৭ দশমিক ১৬ বিলিয়ন এবং ২০১৮ সালে ছিল ৫ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।
তবে ওজনের দিক থেকে বাংলাদেশি পোশাকের রপ্তানির প্রবৃদ্ধি চীনের চেয়েও বেশি। দেশটি প্র্রতি বর্গমিটার সমতুল্য পোশাক আমদানি বাংলাদেশ থেকে বছরে ২০ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২১ সালে ২ দশমিক ৬০ বিলিয়ন থেকে ২০২২ সালে ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন এসএমইতে পৌঁছেছে। অন্যদিকে এ ধরনের পোশাকে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে চীন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি ৩ দশমিক ১১ শতাংশ কমেছে।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান জানান, যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ মাত্র ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, তাই আমাদের কাছে শেয়ারটি আরও বাড়ানোর বিশাল সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশ শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। আরও কয়েকটি পণ্য বিভাগ রয়েছে যেখানে আমাদের আরও ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, আমাদের কাছে এখনো বেশ কয়েকটি মার্কিন ব্র্যান্ড রয়েছে। আমরা মনে করি আমাদের কাছে এখনো বিদ্যমান বাজারে বিশেষীকরণের বিশাল সুযোগ রয়েছে।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জন্য বৃহত্তম বাজার হওয়ায় সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির সময় তুলা ক্ষতিকর পোকা ধ্বংসের জন্য দীর্ঘসময় কোয়রেন্টাইনে রাখা হতো। আমাদের সরকার ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির জন্য বাধ্যতামূলক ফিউমিগেশন প্রয়োজনীয়তায় ছাড় দিয়েছে। এর ফলে আমদানিকারকদের সময় এবং ব্যয় দুটোই কমছে।
ফারুক হাসান বলেন, আমরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের তুলা দিয়ে তৈরি পোশাকের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য মার্কিন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে বিজিএমইএ আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের (এএএফএ) সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে। তাছাড়া, এই বছরের অক্টোবরে ফিলাডেলফিয়ায় ৩৮তম আইএএফ ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশনের আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ আইএএফের সদস্য এবং বিজিএমইএ সভাপতি আইএএফ বোর্ডের একজন পরিচালক হিসেবে সম্মেলনে অংশ নেবেন।
পোশাক আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চীন এখনো শীর্ষ উৎস। দেশটিতে পোশাকের শেয়ার ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ২০২২ সালে ডলারের মূল্যে ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ আমদানি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ২০২২ সালে ২১ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২১ সালে ছিল ১৯ দশমিক ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৮ সালে ছিল ২৭ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। ২০১৮ সালে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা পোশাকের মূল্য ছিল ১২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালে ছিল ১৪ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২২ সালে ১৮ দশমিক ২৪ বিলিয়নে পৌঁছেছে। মোট পোশাক আমদানিতে ভিয়েতনামের অংশও ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০১৮ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ভারত এবং ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশই ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে ৩৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। উভয় দেশের শেয়ার ২০১৮ সালে ছিল ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০২২ সালে উল্লেখ্যযোগ্য প্রবৃদ্ধির দিক থেকে অন্যান্য শীর্ষ দেশগুলো হলো কম্বোডিয়া ২৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়া ২৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, পাকিস্তান ২৪ শতাংশ, হন্ডুরাস ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং মেক্সিকো ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। উল্লিখিত বছরে এই দেশগুলের শেয়ারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
