চুল কালার করার আগেও বিশেষ কিছু যতœ নেওয়া প্রয়োজন। চুল কালার করা মানেই চুলে নানা ধরনের কেমিক্যালের ব্যবহার। তাই সঠিক যতœ না নিলে চুলের ক্ষতি হয়। কালারের আগে খেয়াল রাখুন যেন চুলের আর্দ্রতা ঠিক থাকে। চুল কালার করার এক মাস আগে নিয়মিত চুলে তেল ও সপ্তাহে এক দিন হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন। যদি হেয়ার কালার করার আগে ব্লিচ করতে হয়, তবে আগের দিন রাতে চুলে নারিকেল তেল দিন। চুলের ক্ষতি কম হবে। জানিয়েছেন বিউটি ব্লগার নাহিন ইসলাম
কালার করার সময় : যদি বাড়িতে কালার করেন, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট নিয়ে তবে তা পুরো চুলে ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে হেয়ার কালারের ইনস্ট্রাকশন মেনে চলাও প্রয়োজন। কালার বা ব্লিচ যতক্ষণ চুলে লাগিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া থাকবে ঠিক ততক্ষণই রাখুন।
কালার করার পরে : কালার করার আগে বা কালার করার সময় যেটুকু যতœ নেওয়া দরকার, তা নিতান্তই সামান্য। আসল যতœ কালার করার পরে। রং দীর্ঘস্থায়ী করতে বিশেষ কিছু যতœ একান্ত প্রয়োজন। যতেœর পাশাপাশি কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। চুল কালার করার পর অন্তত দুদিন শ্যাম্পু করা যাবে না। এতে কালার ব্লিডিংও কম হবে এবং চুলে কালার সেট হতে সময় পাবে। শ্যাম্পু করার আগের দিন রাতে অবশ্যই চুলে তেল ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এতে চুলের গায়ে একটি আস্তরণ পড়বে এবং কালার উঠে আসবে না।
যখনই চুলে কোনো ধরনের ট্রিটমেন্ট বা কেমিক্যাল ব্যবহার করবেন, চেষ্টা করুন তারপরই একবার চুল ট্রিম করে নিতে। এ কথা সত্যি যে, চুল কালার করলে কিছু মাত্রায় ক্ষতি হওয়া অবশ্যম্ভাবী। তবে চুল ট্রিম করালে সেই ক্ষতি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমবে। বিশেষত যদি চুলের রং হালকা অর্থাৎ ব্লন্ড বা গোল্ডেন ইত্যাদি শেড হয় সে ক্ষেত্রে বেশ খানিকটা চুল ট্রিম করাতে হতে পারে।
রং দীর্ঘস্থায়ী ও ভালো রাখতে ভালো ব্র্যান্ডের কালার প্রোকক্টিং শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার বেছে নিন। বাজারে যে ধরনের কালার প্রোটেক্টিং শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার পাওয়া যায়, সেগুলো বেশির ভাগই ওয়ার্ম কালার টোনের জন্য (ব্রাউন, মেহগনি, বার্গান্ডি) ভালো। যদি কোনো কুল টোনের শেড বেছে থাকেন সে ক্ষেত্রে সালফেটবিহীন কালার প্রোটেক্টিং শ্যাম্পু বাছুন। যে কোনো শ্যাম্পুই সালফেটমুক্ত হলে ভালো, কারণ তা চুল শুষ্ক করে দেয় না। পাশাপাশি স্ক্যাল্পে বা চুলের গায়ে কোনো বিল্ড-আপও তৈরি করে না। ফলে কালার অনেক দিন ভালো থাকে। যত বেশি শ্যাম্পু করবেন, রঙ ততই হালকা হতে থাকবে। তাই সপ্তাহে ২-৩ বার শ্যাম্পু করুন। এতে চুলের রং তো ভালো থাকবে, পাশাপাশি চুলের প্রাকৃতিক তৈলাক্তভাব ও পুষ্টি ঠিক থাকবে। গরম পানিতে চুল ধুয়ে ফেললে চুলের কিউটিকল উন্মুক্ত হয়। ফলে চুলের আর্দ্রতা কমে যায় এবং চুল রুক্ষ এবং নির্জীব হয়ে পড়ে। এতে চুলের ক্ষতির সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়। তাই ঠা-া পানি দিয়ে চুল ধোয়ার চেষ্টা করুন।
হেয়ার মাস্ক : কালারড চুলের কমন সমস্যা হলো রুক্ষতা এবং শুষ্কতা। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো কন্ডিশনিং মাস্ক। চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এ ধরনের উপকরণ মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারেন। অর্ধেক অ্যাভোকাডো, ১টি পাকা কলা এবং ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে একবার চুলে লাগান। এক ঘণ্টা রেখে সালফেটমুক্ত কোনো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এই প্যাক চুল কন্ডিশন করবে। ফলে রুক্ষতা কমবে এবং চুল পুষ্টিও পাবে।
