পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির (বিএপি) সিনেটর আনোয়ারুল হক কাকার। গতকাল শনিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও জাতীয় পরিষদের বিদায়ী বিরোধীদলীয় নেতা রাজা রিয়াজ এক বৈঠকে আনোয়ারুল হককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী করা বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছান। পরে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির বিষয়টি অনুমোদন করেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানাচ্ছে, গতকাল প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ এবং বিরোধীদলীয় নেতা রিয়াজ তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনোয়ারুলকে নিয়োগের বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির কাছে চিঠি পাঠান। পরে প্রেসিডেন্ট সংবিধানের ২২৪ অনুচ্ছেদ (১এ) অনুযায়ী তা অনুমোদন করেন। আজ আনোয়ারুল শপথ নিতে পারেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠক করার পর বাইরে বেরিয়ে রিয়াজ সাংবাদিকদের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনোয়ারুলের নাম জানিয়েছিলেন। রিয়াজ বলেছিলেন, ‘আমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হতে হবে একটি ছোট প্রদেশ থেকে। আনোয়ারুল হক কাকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন, এ বিষয়ে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি। আমি এ নামটি প্রস্তাব করেছি আর প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি জানিয়েছেন। এরপর আমরা সার-সংক্ষেপে স্বাক্ষর করি।’
পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার তিন দিন আগে ৯ আগস্ট রাতে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। পাকিস্তানের সংবিধানে বলা আছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যদি জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয়, তাহলে ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন করতে হবে। আর জাতীয় পরিষদ মেয়াদ পূর্ণ করলে ৬০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন হবে।
ডন জানাচ্ছে, গত শুক্রবার শাহবাজ শরিফ ও রাজা রিয়াজকে চিঠি দেন প্রেসিডেন্ট আলভি। সেখানে তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের নাম প্রস্তাব করতে বলেন। চিঠিতে আলভি মনে করিয়ে দেন, ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পরামর্শে তিনি জাতীয় পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন। তাই তাদের ১২ আগস্টের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর নাম প্রস্তাব করতে নির্দেশ দেন আলভি।
আনোয়ারুল কাকার ২০১৮ সালে বেলুচিস্তান থেকে ছয় বছরের জন্য সিনেটর নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের মার্চে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। পাশাপাশি তিনি প্রবাসী পাকিস্তানি ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সিনেটের স্থায়ী কমিটির চেয়ারপারসন। একই সঙ্গে তিনি ব্যবসায়ী, উপদেষ্টা কমিটি, অর্থ ও রাজস্ব, বৈদেশিক বিষয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক কমিটিরও সদস্য। ২০১৮ সালে গঠিত হয় বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি)। তিনি সিনেটে এই দলের সংসদীয় নেতার দায়িত্বও পালন করেন।
আনোয়ারুল বরাবরই বেশ সক্রিয় রাজনীতিবিদ। উচ্চকক্ষে (সিনেট) নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পিএমএল-এন ও পিপিপিসহ মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ সিনেটরের সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি ২০০৮ সালে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে কোয়েটা থেকে পিএমএল-কিউর হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। রাজনীতিবিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানে ডিগ্রিধারী আনোয়ারুল বেলুচিস্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৭১ সালে বেলুচিস্তানের কিল্লা সাইফুল্লাহ জেলায় জন্ম নেওয়া আনোয়ারুল নিজ শহরে স্কুলে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।
