ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি এবং সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দুই কংগ্রেসম্যান। গতকাল রবিবার দেশটির রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের গুলশানের বাসায় এ বৈঠক হয়। অনির্ধারিত এ বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরবিরোধী অবস্থান জানিয়েছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে, এ অবস্থানে অনড় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি।
গতকাল বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলটির অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক এবং সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান, নাহিম রাজ্জাক ও তামান্না নুসরাত (বুবলী)। বিএনপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিদলে ছিলেন তিন সংসদ সদস্য শেরিফা কাদের, রানা মোহাম্মদ সোহেল ও নাজমা আকতার।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার কংগ্রেসম্যান (রিপাবলিকান) রিক ম্যাক্রোরমিক ও হাওয়াইয়ের কংগ্রেসম্যান (ডেমোক্র্যাট) এড কেইস ছাড়াও বৈঠকে পিটার হাস উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলে থাকা এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে জানান, তারা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যবেক্ষক পাঠাতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এ বিষয়টি তুলে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেছেন, সংবিধানসম্মত উপায়ে বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন হবে। কারও অযৌক্তিক দাবির কারণে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো উপায়ে সরকার যেতে পারে না। সেই ম্যান্ডেট সরকারকে জনগণ দেয়নি।
আইনের মাধ্যমে সরকার নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কংগ্রেসম্যানকে জানান আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের এক সদস্য। তিনি আরও বলেন, সামনের অধিবেশনে আরেকটা আইন আসবে। সেখানে নির্বাচনের সময়ে বিশৃঙ্খলা করা, সাংবাদিকদের বাধা দিলে শাস্তির বিধান রাখা হবে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দলটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বলেও জানান। এ ছাড়া দেশে এক ব্যক্তির শাসন চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিএনপির এ নেতা।
জানতে চাইলে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, কেন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না, বিএনপির পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে বৈঠকে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে বিএনপি যাবে না বলেও তাদের জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক আসার প্রসঙ্গটি এসেছিল। আমরা বলেছি, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সেখানে পর্যবেক্ষক আসা অর্থহীন।’
জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রানা মোহাম্মদ সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা বলেছেন, বাংলাদেশে এমন ধরনের নির্বাচন হওয়া উচিত যেন বহির্বিশ্ব বুঝতে পারে, বিশ্বাস করে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়েছে।
জানা গেছে, বৈঠকে কংগ্রেসম্যান এড কেইস আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলকে বলেছেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবীর কাছে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আশা করে যুক্তরাষ্ট্র। তাই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করছে দেশটি।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব কী কারণে, সে বিষয়টি উল্লেখ করা হয় বলে জানা গেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইন্দো-প্যাসিফিকে অঞ্চলে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনসংখ্যা, সারা পৃথিবীতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা কমে যাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশে যেন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকে, সেটা চায় যুক্তরাষ্ট্র।
