মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর পরে বিএনপির বিবৃতি ও তার অনুসারীদের হাঙ্গামা সবই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য শাপে বর ভাবছে দলটি। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রথমত বিএনপির বিবৃতির মধ্য দিয়ে দলটি প্রমাণ করেছে জামায়াতের সঙ্গ ছেড়েছে দাবি করলেও তা পুরোটাই মিথ্যা। দ্বিতীয়ত, দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে বিএনপির বিবৃতি প্রমাণ করে তারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে।
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সখ্য নেই বলে যে ঘোষণা তারা করেছে, সেটি মিথ্যা ও বিএনপি যে যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থন করে এই বিবৃতি বিদেশিদের বোঝানোর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। একটি বিবৃতিই রাজনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে আওয়ামী লীগের জন্য।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাঈদীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এবং বিএনপির বিবৃতির ভেতর দিয়ে আজকে প্রমাণিত তারা মুখে দাবি করলেও দুটি দলের কেউ কাউকে ছাড়েনি। তিনি বলেন, কেউ কাউকে ছাড়তে পারবে না, সেটা আরেকবার প্রমাণ হলো।
আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি বিবৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করল যুদ্ধাপরাধকে তারা সমর্থন করে। শুধু তাই নয়, বিএনপি-জামায়াত মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। বিএনপি ও জামায়াত দেশের জনগণকে ধোঁকা দেয়। বিএনপি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারক-বাহক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপির নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাজা কার্যকরের পরে কিন্তু তারা বিবৃতি দেয়নি। কিন্তু জামায়াত বা জামায়াত নেতা বিএনপির এতো আপন যে সাঈদীর মৃত্যুর পর বিবৃতি দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর পর তার ছোট ছেলে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন তার বাবার জন্ম ১৯৪০ সালে। অথচ মানবতাবিরোধী অপরাধে সাঈদীর বিচার যখন চলছিল তখন তার দল ও আইনজীবী আদালতে প্রমাণ করতে চেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় সাঈদীর বয়স ছিল ১৩/১৪ বছর। তার ছেলের বক্তব্য প্রমাণ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় সাঈদীর বয়স ৩০/৩১ ছিল।
তারা বলেন, এসব নানা ঘটনা সরকারের জন্য ও আওয়ামী লীগের জন্য অনিষ্টে ইষ্ট লাভ বা শাপে বর হয়ে দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া সাঈদীর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব উসকানিমূলক প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে তাও আওয়ামী লীগের জন্য সুফল বয়ে এনেছে দাবি করে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প কতটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বাংলাদেশে। ওই নেতাদের দাবি, এতে অনেক সাধারণ মানুষ মনে করতে শুরু করেছে সরকার ও রাজনীতিতে সত্যিকার অর্থে আওয়ামী লীগের বাইরে কারও হাতে দেশ ও দেশের মানুষ নিরাপদ নয়।
এসব নেতারা বলেন, এটিও আওয়ামী লীগের জন্য আগামী নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ সুফল এনে দিতে পারে। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা দাবি করেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাঈদীর দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তার ও জামায়াতে অনুসারীরা যে অস্থিরতা দেশে সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করার চেষ্টা করেছে তা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্যোগ সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। সাঈদীর মৃত্যুর দুই দিন পর্যন্ত সৃষ্ট সকল ঘটনা আওয়ামী লীগকে সুফল এনে দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আরেকবার বুঝতে সক্ষম হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা বিএনপি। জামায়াত-বিএনপি একে অপরের পরিপূরক।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে দেশ ও দেশের মানুষ নিরাপদ।
