কেনা গোলামদের ক্ষমতায় বসিয়ে তারা খেলতে চায়

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৩, ০২:৫০ এএম

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে বলেছেন, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশকে আক্রমণ করাই তাদের উদ্দেশ্য। তাদের উদ্দেশ্য নির্বাচন নয়, গণতন্ত্র নয়, তারা কেনা গোলামদের ক্ষমতায় বসিয়ে এ জায়গাটি নিয়ে খেলবে।

তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের দিক দিয়ে ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর...। এ ভারত মহাসাগরে আমাদের বঙ্গোপসাগর। এর গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রাচীন যুগ থেকে এ জায়গা দিয়ে সব ব্যবসা-বাণিজ্য চলে। আমাদের ভারত মহাসাগরে যতগুলো দেশ আছে কারও সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক যোগাযোগ পথ, এ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে নির্বিঘেœ পণ্য পরিবহন হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে গণতন্ত্রের নাম নিয়ে, নির্বাচনের নাম নিয়ে, নানা নাম নিয়ে এই দেশে এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করতে চায়, যাতে করে ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগরকে ব্যবহার করতে পারে তারা। এটাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে আক্রমণ করা এবং দেশগুলোকে ধ্বংস করা। এটাই হচ্ছে কারও কারও উদ্দেশ্য। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কিন্তু এদের নানা ধরনের টালবাহানা। এটা দেশবাসীকে বুঝতে হবে।’

গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীএসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য তারানা হালিম প্রমুখ।

স্মরণসভা সঞ্চালনা করেন প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও উপপ্রচার সম্পাদক আবদুল আউয়াল শামীম।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে একটা কথা আমি সবাইকে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলে রাখি, এদের উদ্দেশ্য এখানে নির্বাচন নয়, এদের উদ্দেশ্য গণতন্ত্র নয়, এরা একটা জিনিসই করতে চায়। তারা বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায়। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। আজকে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভিত্তিটা মজবুত করেছি। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছি, বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি হচ্ছে, উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। হতদরিদ্র ৫ দশমিক ৭ নামিয়ে এনেছি।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই এলাকাটাকে নিয়ে নানাভাবে খেলার চক্রান্ত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০ বছর ধরে সংঘাত ছিল। আমি সরকারে (১৯৯৬) আসার পর শান্তি ফিরিয়ে আনি। সেখানেও আবার নানারকম অশান্তি সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলছে। যেহেতু এটা আমি জানি, বুঝি। যে কারণে কীভাবে আমাকে ক্ষমতা থেকে সরাবে এবং তাদের কিছু কেনা গোলাম আছে, পদলেহনকারী আছে তাদের বসিয়ে এ জায়গাটা নিয়ে খেলবে। সেটাই হচ্ছে প্রচেষ্টা। সেটা আমি ভালোভাবে বুঝতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু আঁতেল আছে। জানি না তারা এসব চিন্তা করে কি না। এগুলো কখনো উপলব্ধি করে কি না? সেগুলো না করেই তারা এদের সঙ্গে সুর মেলায়, দুটো পয়সার লোভে তারা নানাভাবে এ কাজগুলো করে বেড়ায়। এ বিষয়ে আমাদের যেমন সজাগ থাকতে হবে, তাছাড়া অন্যান্য দেশ... আমি বলব ভারত মহাসাগরসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো যথেষ্ট সচেতন আছে। এটা আমি বিশ্বাস করি।’ সরকারপ্রধান দেশপ্রেমিক নাগরিকদের এ ব্যাপারে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘এই কথাটা সবাইকে মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের এতটুকু ক্ষতি করে কোনোদিন ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা আমি করি না। তাহলে ২০০১ সালে যখন আমার কাছে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব এসেছিল... খালি মুখেই বলতাম আমি গ্যাস বিক্রি করব, তাহলে ক্ষমতায় আসতে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু দেশের স্বার্থ বেচে, দেশের মানুষের সম্পদ অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দিয়ে আমাকে ক্ষমতায় যেতে হবে এরকম ক্ষমতালোভী আমি না, আমার বাবাও ছিলেন না, আমিও না।’

যুক্তরাষ্ট্রে বঙ্গবন্ধু খুনিদের আশ্রয় দেওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব থেকে বেশি অবাক লাগে যেসব দেশ আমাদের কাছে এসে মানবাধিকারের কথা বলে, তারা নির্বাচনের কথা বলে, স্বচ্ছতার কথা বলে, তারা যেন বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে খুব উতলা হয়ে পড়েছে। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এ দেশের মানুষের ওপর, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে অত্যাচার করল, খুনসহ নানান অপকর্ম করেছিল, তা নিয়ে তো কোনো কথা বলেনি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেই নির্বাচনে তো আওয়ামী লীগের হারার কথা ছিল না, আমাদের হারানো হয়েছিল। খালেদা জিয়া যখন ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিল, তখন তাদের নির্বাচনী চেতনা কোথায় ছিল? জিয়াউর রহমান ও এরশাদের আমলের বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে তো কোনো কথা বলেনি। সেটা নিয়ে এদের কোনো উদ্বেগ আমরা দেখিনি।’ তিনি বলেন, ‘হঠাৎ এবারের নির্বাচনের সময় দেশটি যেন খুব বেশি উতলা হয়ে পড়ল। আর নির্বাচনের দাড়ি, কমা, সেমিকোলন, কোথায়, কী, কীভাবে হবে তাই নিয়ে সব থেকে বেশি... এবং একের এক তাদের লোকজন আসা শুরু করল। কেন? কারণটা কী? বিএনপি এখন তাদের চোখের মণি, যারা এত মানুষ হত্যা করেছে। জাতির পিতার হত্যার সঙ্গে জড়িত। যে বিএনপির দ্বারা কদিন আগে তো আগুন দিয়েছে, সন্ত্রাস ও মানুষ খুন করেছে ২০১৩, ’১৪ ও ’১৫ সালে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছুদিন আগে তো পুলিশের গাড়িতে আক্রমণ, পুলিশের ওপর আক্রমণ করল। তো পুলিশ কি বসে বসে মার খাবে? জাতীয় সম্পদ নষ্ট করা, এ দেশে একটার পর এক ধ্বংসযজ্ঞ চালাল, আজকে তাদের (বিএনপি) নিয়ে মাতামাতি, তাদের নিয়ে বসতে হবে, কথা বলতে হবে। অনেক বলেছি। শুধু বাংলাদেশের মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে, শুধু আমার বাবার স্বপ্নপূরণের জন্য, অনেক কিছু সহ্য করেছি। করে দেশের জন্য কাজ করেছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আজকে নির্বাচন নিয়ে এত বেশি কথা হচ্ছে, যখন আমরা আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছি। আর খালেদা জিয়া আজিজ মার্কা, সাইদ মার্কা নির্বাচন কমিশন করেছে। ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার নিয়ে যখন তারা (বিএনপি) নির্বাচন করতে চেয়েছিল তখন আমরা এসব চেতনা দেখিনি। এত কথাও শুনিনি। আমার মনে হয় বাংলাদেশের উন্নয়নটা তাদের পছন্দ নয়। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা পছন্দ নয়।’ তিনি বলেন, আজকে গণতন্ত্রের কথা বলে, গণতন্ত্র কী?

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘যে বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত, যাদের হাতে আমার বাবা-মা-ভাইয়ের রক্তের দাগ। তাদের জন্য তারা উতলা হয়েছে। আমাদের কর্মীদের ওপর বারবার হামলা করে মৃত্যুর মুখে নিয়ে গিয়েছে, তাদের আজকে ক্ষমতায় বসাতে হবে!’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত