জামালপুরে সাংবাদিক নাদিম হত্যা

এজাহারভুক্ত ১৩ আসামি দুই মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৩, ০৬:০১ এএম

জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিক নাদিম হত্যাকা-ের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এই মামলার দুই নম্বর আসামি এবং বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান বাবুর ছেলে রিফাতসহ এজাহারে নাম উল্লেখ করা ২২ আসামির মধ্যে ১৩ জন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত কয়েকজন আসামি জামিনে ছাড়া পেয়ে বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে নিহত নাদিমের পরিবারকে হুমকি ধমকি দিচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। 

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক নাদিম হত্যার ঘটনায় গত ১৭ জুন তার স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে বাবু, তার ছেলে রিফাতসহ ২২ জনের নাম উল্লেখসহ ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করে। ওই ১৭ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি রয়েছে পাঁচজন। পরে তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আর এজাহারভুক্ত চার আসামি ইতিমধ্যে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন।

এ হত্যাকা-ের প্রধান আসামি বাবুসহ রেজাউল করিম ও মো. মনিরুজ্জামান ১৬৪ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৯ জুন মামলাটি জামালপুর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী হত্যার দুই মাস হয়ে গেছে। আমরা সঠিক বিচারের আসায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেছি। তারা আমাদের আশ^স্ত করেছেন। আমার প্রশাসনের প্রতি আস্থা, ভরসা ও বিশ্বাস ছিল। কিন্তু হত্যাকা-ের দুমাস অতিবাহিত হলেও এজাহারভুক্ত ১৩আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।’ দ্রুত সময়ের মধ্যে এজাহারভুক্ত সব আসামিকে গ্রেপ্তারসহ হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

নাদিমের মা আলেয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১৩ জন আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছাড়া পাওয়া আসামিরা লোক মারফতে আমাদের হুমকি ধমকি দেয়।

নাদিমের মেয়ে রাব্বিলাতুল জান্নাত বলেন, ‘আমার বাবা হত্যার এজাহারভুক্ত ২২ জন আসামির মধ্যে ১৩ জন গ্রেপ্তার হয়নি। ইতিমধ্যে চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছে। আসামিরা যদি জামিনে আসে, তাহলে তো আমাদের জীবন নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে।’

জামালপুর অনলাইন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘নাদিম হত্যার দুই মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এজাহারভুক্ত অনেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। আমরা দ্রুত এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’  

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘এই মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করেই আমরা মামলার তদন্ত কাজ শেষ করব। যত তাড়াতাড়ি এই মামলা শেষ করা যায় আমরা সেই ব্যবস্থা নেব। নিহতের পরিবারকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি।’

প্রসঙ্গত, সাংবাদিক নাদিম গত ১৪ জুন পেশাগত দায়িত্বপালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে পৌর শহরের পাটহাটি মোড় এলাকায় আসামি বাবুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। ১৫ জুন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। নাদিম বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত