বোকা জনগণ পেয়ে কিছু মানুষ অর্থনীতিকে পুঞ্জীভূত করে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বিচারপতি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুর রউফ। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘অর্থনীতিতে রাজনৈতিক অস্তিত্বশীলতার প্রভাব এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণে উপায়’ শীর্ষক এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সমস্যার সমাধানে অর্থনৈতিক ধারণা বা কনসেপ্টগুলো বদলানোর পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি অর্থনৈতিক দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে তরুণ অর্থনীতিবিদদের ইতিহাস চর্চারও তাগিদ দিয়েছেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।
আবদুর রউফ বলেন, ‘একটা সময় এক পয়সায় অনেক কিছু পাওয়া যেত। আর এখন ১০ টাকার কম ভিক্ষা দেওয়া যায় না; অর্থাৎ আমাদের পূর্বপুরুষেরা টাকার যে মূল্য রেখে গেছেন, সেটা আমরা ধরে রাখতে পারিনি। তাই এখন টাকা টয়লেট টিস্যুতে রূপান্তরিত হয়েছে। কম দামে পণ্য উৎপাদন করলে বিদেশি ক্রেতারা এখান থেকে পণ্য কিনবেনÑ এই উদ্দেশ্যে টাকার মান কমিয়েও কেন সুফল আসছে না? এত এত অর্থনীতি পড়ে টাকার মান খোয়ালাম কেন?’
তিনি বলেন, ব্রিটিশদের ষড়যন্ত্রে টাকার মান হারালেও সেখান থেকে ফিরে আসার জন্য কেউ কখনো কোনো চেষ্টা করেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরি হয়ে যায়, কিন্তু এ কথা কেউ জানে না। এটা কীভাবে হতে পারে? এ ধরনের অর্থনৈতিক দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে বাংলার ইতিহাস চর্চা এবং গবেষণার মাধ্যমে টাকার মান বৃদ্ধি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সামনে এগিয়ে আসতে হবে নতুন প্রজন্মের অর্থনীতিবিদদের।
বিচারপতি আবদুর রউফ বলেন, ‘জনগণকে বোকা পেয়ে কিছু মানুষ অর্থনীতিকে পুঞ্জীভূত করে ফেলেছে। এই সমস্যার সমাধানে আমাদের অর্থনৈতিক ধারণা বা কনসেপ্টগুলো বদলাতে হবে। টাঁকশাল বাংলাদেশের সম্পদের ভা-ার নয়। টাকা ছাপালেই অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান হয় না। সমস্যার মূল থেকে এর সমাধান নিয়ে আসতে হবে এবং এই দায়িত্বটা তরুণ অর্থনীতিবিদদের।’
রাজনীতি সম্পর্কে সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের যত দিন নমিনেশন-বাণিজ্য থাকবে, তত দিন গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হবে না। ভালো কৌশল বা নীতি দিয়ে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন করার নাম রাজনীতি। কিন্তু নেতাদের মাধ্যমে নীতি পরিবর্তন করার নাম রাজনীতি নয়। সব রাজনৈতিক দলকে সমান অধিকার দিতে হবে।’ পাশাপাশি চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে গণতন্ত্র থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) অধ্যাপক হাসনাত আলী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হয়েছে। একটি বিশেষ গ্রুপের কবজায় সাতটি ব্যাংক। বেআইনিভাবে ৮০ হাজার কোটি টাকা লোন নিয়েছে ব্যাংক থেকে। বিদেশে পাচার করেছে টাকা। দেশ থেকে অর্থ পাচার হয়ে গেলেও ৭২ বার পেছানো হয়েছে তার চার্জশিট দেওয়ার তারিখ। রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের নামে করা হয়েছে রাজনৈতিক লুটপাট। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে। এই মুহূর্তে সরকার ঘোষণা করেছে পেনশন স্কিমের; যা কোনোভাবে বিশ্বাসযোগ্য নয়।
