ঠাকুরগাঁও শহরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ওরাঁও সম্প্রদায়ের একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের পরিষদপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম ইস্টিফান তিরকী (৫০)। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ইস্টিফান তিরকীর দুই সন্তান রয়েছে। তিনি পেশায় সেচপাম্পসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ মেরামতকারী (টেকনিশিয়ান) ছিলেন। তাকে হত্যার ঘটনায় আটকরা হলো পরিষদপাড়া এলাকার জুলিয়ান টপ্প (৪২), প্রদিপ তিরকী (১৯) ও মনোরঞ্জন তীগ্যা (৩৭)।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, ইস্টিফান শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বাড়ি থেকে জেলা পরিষদপাড়ায় যান। সেখানে রাত ১০টার দিকে রবি ড্রাইভারের বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ইস্টিফান। এ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো এলাকা অন্ধকার ছিল। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে ইস্টিফানকে মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইস্টিফানের স্ত্রী ভেরনিকা খালকো বলেন, ‘প্রতিবেশী এক হিন্দু ব্যক্তির কাছ থেকে দখল করা জমি উদ্ধার করতে জুলিয়ান ও গ্যাব্রিয়েল ওরফে গাবের কাছে সহায়তা নেন ইস্টিফানের বাবা। এ ঘটনায় ইস্টিফানের বাবা দানিয়েলসহ জুলিয়ান ও গাবে মামলার আসামি হয়। এ মামলা সাত বছর চলমান থাকার পর নিষ্পত্তি হয়। পরে বাবা দানিয়েল মারা গেলে মামলার আসামি হওয়ার সুবাদে মাঝেমধ্যেই ইস্টিফানের কাছে অর্থ দাবি করত জুলিয়ান ও গাবে। অর্থ না দেওয়ায় অনেকবার ইস্টিফানকে তারা মারধরও করেছে। টাকা না পেয়ে তারাই আমার স্বামীকে খুন করেছে। আমি তাদের বিচার দাবি করছি।’
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবদুস সালাম বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই ইস্টিফান মারা যান। অস্ত্রের আঘাতে তার বুকে গভীরভাবে ক্ষত হয়, এতে প্রচন্ড রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।’
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি য্যাকোব খালকো বলেন, ‘ঘটনার কয়েক মিনিট আগে তার (ইস্টিফান) সঙ্গে কথা হয়। এরপর কিছুক্ষণ পর শুনতে পাই ইস্টিফান খুন হয়েছেন। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি ফিরোজ বলেন, ‘এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। দ্রুতই দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
