সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দুদিনের সফরে ঢাকায় আসছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের নানামুখী চাপকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে ল্যাভরভের এ সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ সফরে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা ও রুশ কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে হতে যাওয়া জি-২০ সম্মেলনে যোগ দেবেন ল্যাভরভ। তার আগে ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর দুদিন ঢাকা সফরে থাকবেন তিনি।
কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফর ভূরাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ সফর হবে অনেক বেশি রাজনৈতিক। এদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশ বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র। তারা কোনোভাবেই চায় না বাংলাদেশ চীন-রাশিয়া বলয়ে ঝুঁকে পড়ুক। আবার যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপে বাংলাদেশও অনেকটাই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাই এ সফর নতুন বার্তা যোগ করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে এবং যুদ্ধ ইস্যুতে নিজেদের পক্ষে মত তুলে ধরতে অনেক দেশে সফর করেছেন। একইভাবে বাংলাদেশ সফরেও আগ্রহ দেখিয়েছে মস্কো। ঢাকায় রাশিয়ান দূতাবাস থেকে বাংলাদেশে সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগেও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি। এবারও মস্কো আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফর সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্র রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন সের্গেই ল্যাভরভ। মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় ওই সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সশরীরে যোগ দিতে পারছেন না। সম্মেলনে আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেখা-সাক্ষাৎ হবে, তবে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কটা ঐতিহাসিক। রাশিয়া বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কাজেই রাশিয়ার একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর খুবই ইতিবাচক। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিটাই এমন সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসেন। বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বাংলাদেশ সফর করেন। তাই এটা আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়। এটার মধ্যে অন্য কোনো চাপ আমি দেখছি না। রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের একটা সম্পর্ক আছে। বিশেষ করে, রূপপুরের ব্যাপারটা বিশাল। এখানে রাশিয়ার বিনিয়োগ আছে।’
