ছোট পর্দা দাপিয়ে এখন বড় পর্দাতেও নিজের অবস্থানের জানান দিচ্ছেন আব্দুন নূর সজল। গেল শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তার ‘১৯৭১ সেইসব দিন’ সিনেমা। মুক্তির পর সিনেমাটি দারুণ সাড়া ফেলেছে।
মুক্তির পর সাড়া প্রসঙ্গে সজল বলেন, ‘দর্শকের এত বেশি সাড়া পাচ্ছি, সবাই যেভাবে ইতিবাচক মন্তব্য করছেন আমি আপ্লুত। সাধারণ দর্শকরা তো প্রশংসা করছেই পাশাপাশি আমাদের সহকর্মীরা অনেকেই ছবিটি দেখেছেন, প্রশংসা করছেন। খুবই ভালো লাগছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করাটা সত্যিই অনেক কঠিন। সে সময়টাকে ধরা, সময়ের সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় জড়িত থাকে সেসব একদম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ফুটিয়ে তুলাটা স্বভাবতই কঠিন। তারপরেও আমাদের নির্মাতারা চেষ্টা করছেন। ছবিটা নিয়ে এত ইতিবাচক মন্তব্য, সাড়া-সবকিছুর ক্রেডিট নির্মাতা হৃদি হকের। সে ওই সময়ের গল্পটাকে একটু অন্যরকম করে উপস্থাপন করতে চেয়েছে, একটু রঙিনভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছে। সেই সময়ে যে ভালোবাসা, কষ্ট, দুঃখ-দুর্দশা, টানাপোড়েন ছিল, সবগুলো সম্পর্কের রঙগুলোকে ধরেছে হৃদি। সেই বিষয়গুলোকে সে খুব সুন্দরভাবে পোর্টে করার চেষ্টা করেছে।’
ছবিটিতে কাজ করতে গিয়ে অভিজ্ঞতা এবং ভালো লাগা মুহূর্তের কথা শেয়ার করতে গিয়ে এ তারকা বলেন, ‘ছবিটা মুক্তির পর একটা মুহূর্তের কথা আমার বারবারই মনে পড়ছে। যারা ছবিটি দেখেছেন তাদের বেশিরভাগ দর্শকই কাঁদতে কাঁদতে সিনেমাহল থেকে বের হয়েছেন। সবাই ইমোশনালি কানেক্ট হয়ে গিয়েছেন। যারা ম্যাচিউর মানুষ তাদের চোখে তো সহজে পানি আসে না কিন্তু চোখ দেখলে সেটা কিছুটা হলেও বুঝা যায়। আমি সেসব দেখছিলাম। এরমধ্যে একজনের কথা না বললেই নয়, তিনি হচ্ছেন আমাদের শিরিন বকুল আপা। তিনি ছবিটি দেখে বের হয়ে আসার পর আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন। আমি আসলে ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না কি করবো। উনি এত বেশি ইমোশনালি কানেক্টেড হয়েছেন যে কান্না ধরে রাখতে পারেননি। পরে তিনি আমাকে বললেন, ‘রঞ্জু (সজল) যে বেঁচে আছে এটা দেখতে পেরেই চোখে পানি চলে এসেছে’। ছবিতে আমার চরিত্রের নাম থাকে রঞ্জু। দেশ স্বাধীন হল, সবাই ফিরে এল কিন্তু রঞ্জু আর ফিরে আসেনি। এই মুহূর্তটা আমার সবসময় মনে থাকবে।

আর অভিজ্ঞতা যদি বলি, এখানে আমরা যারা কাজ করেছি সবাই বেশ আন্তরিকতার সঙ্গে এবং নিজেরা কাজটিকে ওন করে করেছি। এমনিতে মুক্তিযুদ্ধের গল্পে কাজ করা বেশ কষ্টের। সে সময়টাকে ধরা থেকে শুরু করে গেটাপ-লুক সবকিছুতেই অনেক এফোর্ট দিতে হয়। গানটির শুটের সময় দুই লটে কাজ করেছি। প্রথম যখন করি তখন ছিল ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। তখন এত বেশি কষ্ট হয়নি কারন শীতের মধ্যে করেছিলাম কিন্তু পরের লটে সেটার শুট করতে হয়েছে ৩৯ ডিগ্রি তাপমাত্রায় যেখানে সোয়েটার পরে শট দিতে হয়েছিল। আউটডোরে শুট করছিলাম, এত গরমের মধ্যে শীতের কাপড়ে শুট করতে খুব কষ্ট হয়েছে। পাঁচ সেকেন্ডও সময় লাগতো না, ঘেমে-ভিজে একদম একাকার হয়ে যেতাম ভিতরে। এই বিষয়টা মনে হলে এখনো আমরা সবাই হাসাহাসি করি যে, কি গরমের মধ্যে শীতের কাপড় পরে শুট করেছিলাম।’
