ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের জন্য বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হবে। ‘বিশ্বমানের’ করার জন্য দুটি অপারেশন থিয়েটার, দুটি এনজিওগ্রাম মেশিন, একটি সিটি এনজিওগ্রাম মেশিন ও একটি এমআরআই মেশিন কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ এগুলো চালানোর জন্য কোনো জনবলের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। সর্বশেষ গত মঙ্গলবারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছিলেন, হাসপাতাল করলে যাতে দক্ষ জনবলের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
সম্প্রতি ‘ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মেডিকেল যন্ত্রপাতি আধুনিকীকরণ ও বিশ্বমানে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন। এ প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। এ প্রকল্পটির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
প্রকল্পের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এতে যে যন্ত্রপাতি কেনা হবে তা চালানোর জন্য কোনো জনবলের অনুমোদন দেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়। হার্ট ফাউন্ডেশন বলছে, তাদের নিজস্ব অর্থায়নে জনবলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পের প্রস্তাবিত জনবলের বেতন বাবদ নিজস্ব অর্থায়নে পাঁচ কোটি টাকা এবং ভাতা দায়িত্ব ও সম্মানী ভাতা বাবদ ১৫ লাখ টাকা সংস্থান করা হলেও এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের জনবল কমিটির অনুমোদন নেই। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অর্থের উৎস নির্বিশেষে জনবল বাবদ সংস্থানের জন্য অর্থ বিভাগের সুপারিশ গ্রহণ করা আবশ্যক। অন্যথায় জনবলের আর্থিক সংস্থানটি বাদ দিয়ে ডিপিপি পুনর্গঠন করতে হবে।
ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজস্ব খাতের আওতায় দরপত্র আহ্বান, প্রচার ও বিজ্ঞাপন ব্যয় বাবদ ১৩ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা কমানোর পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।
গত মঙ্গলবার একনেক সভায় হাসপাতালগুলোর আধুনিকায়ন-সংক্রান্ত প্রকল্পের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমান্তরালভাবে অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় জনবল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে বলেন, যাতে এগুলো প্রথম থেকেই পুরোদমে চালু করা যায়। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, জনবল, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের অভাব মোটেও গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
প্রকল্পটির বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাতটি মেডিকেল পারফিউশন ইকুইপমেন্ট কেনায় খরচ হবে চার কোটি, দুটি এনজিওগ্রাম মেশিন কিনতে খরচ হবে ১৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ৯৭৫টি কার্ডিয়াক সার্জিকেল ইকুইপমেন্ট কিনতে খরচ হবে ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা, দুটি এমআরআই মেশিন কিনতে খরচ হবে ১৬ কোটি ১০ লাখ টাকা, পেডিয়েট্রিক সার্জিক্যাল ইকুইপমেন্ট কিনতে খরচ হবে ৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
মেডিকেল ইকুইপমেন্ট খাতে ২ হাজার ৪৯৯টি সেট যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সংগ্রহ বাবদ ডিপিপিতে ৪৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানে যন্ত্রপাতি সংগ্রহের জন্য ছয় সদস্য বিশিষ্ট যে ব্যয় প্রাক্কলন কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাতে বাইরের কোনো সদস্য নেই, বরং তা সম্পূর্ণভাবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ইনহাউজ কমিটি। নন-সিডিউল আইটেম হিসেবে প্রচলিত বিধি অনুসারে উদ্যোগী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক ন্যূনতম একজন বাইরের সদস্যসহ গঠিত বাজার দর কমিটির মাধ্যমে এ খাতের পরিমাণ, স্পেসিফিকেশন, একক দর ও ন্যায় সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নির্ধারণ করা সমীচীন হবে বলে মনে করে পরিকল্পনা কমিশন।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ১৯৭৮ সালে সিওপিডি কার্যক্রমসহ চালু হওয়ার পর ১৯৯৯ সালে ক্যাথ ল্যাবস প্রসিডিউর ও কার্ডিয়াক বাইপাস অপারেশন কার্যক্রম চালু হয়। নভেম্বর ২০২১ পর্যন্ত মোট দুই লাখের ওপর রিং স্থাপন, ৩৫ হাজার ৮৬৫ জনের বাইপাস অপারেশন এবং ২ লাখ ৮৯ হাজার ২২০ জন হৃদরোগীকে ওপিডি সার্ভিস দিয়েছে।