ভাদ্রের দুপুর। তীব্র রোদ আর গরমে হাঁসফাঁস চারপাশ। দিন কয় আগে হয়ে যাওয়া বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল নগরবাসী। এরপর আর বৃষ্টির দেখা নেই। তবে কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে আছে। মানুষের জন্য অস্পৃশ্য হলেও পাখিদের জন্য এসব পানি গরমে স্বস্তির উপায়।
তেমন দৃশ্যই দেখা গেল বগুড়া শহরের সাতমাথায় জিলা স্কুলের উত্তরে প্রাচীর ঘেঁষা পৌর পার্কিংয়ে। কোনোভাবে গর্ত হয়েছিল পার্কিংয়ে। সেখানে বৃষ্টি আর পার্শ্ববর্তী নালা থেকে উপচে আসা পানি জমে আছে। বুধবার দুপুর আড়াইটার সেই জমে থাকা পানিতে জলকেলি করতে দেখা গেল একঝাঁক শালিককে।
জিলা স্কুলের প্রাচীরের পাশে চায়ের দোকানে বসে তাদের ‘পানি উৎসব’ দেখছিলেন এ প্রতিবেদক।
সেখানে দেখা যায়, একঝাঁক শালিক স্কুলের প্রাচীরের ওপর বসছে, আবার জমে থাকা পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। কয়েক দিনের জমা থাকা পানির উপরিভাগ সবুজাভ নীল হয়েছিল। মানুষের জন্য তা বিষাক্ত। তবে রোগ-জীবাণুর বালাই নাই শালিকদের। ওই নোংরা পানিতেই প্রায় ৩০ মিনিট মত্ত থাকল শালিকগুলো। পানিতে হুটোপুটি শেষে দল বেঁধে তারা আবার প্রাচীরের ওপর গিয়ে বসে এসব শালিক।

বগুড়া জিলা স্কুলের প্রাচীর ঘেঁষে থাকা চা দোকানি জিয়া বলেন, পাখিরা এ পানিতে নেমে গোসল করে। প্রায় প্রতিদিনই এই দৃশ্য চোখে পড়ে।
সেখানে উপস্থিত বগুড়ার সিনিয়র ফটোসাংবাদিক বজলুর রশিদ সুইট বলেন, এখানে পাখিদের জলকেলি সত্যি অনেক সুন্দর।
জমে থাকা পানির বিষয়ে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি ও পৌরসভার ড্রেনের উপচে আসা পানি এক হয়েছে ওই গর্তে। আর সেখানেই শালিক পাখির দল জলকেলিতে মেতেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আলোকচিত্রী অরিত্র সাত্তার জানান, এগুলো গাঙশালিক। এসব পাখির মূল বৈশিষ্ট্য তারা নদীর পাড়ের মাটিতে গর্ত করে থাকতে পারে। তবে অনেক গাঙশালিক শহর এলাকায়ও বসবাস করে।