রিভিউ

জাওয়ান যেন শাহরুখ-অ্যাটলির বিরিয়ানি

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৪:০৭ পিএম

সাত মাস পর আবারও বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের প্রত্যাবর্তন। ‘পাঠান’-এর পর আরও একটি অ্যাকশন সিনেমায় নিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার (০৭ সেপ্টেম্বর) তিনটি ভাষায় মুক্তি পেয়েছে জাওয়ান। আর এই সিনেমার হাত ধরেই বলিউডে নাম লেখালেন তামিল পরিচালক অ্যাটলি কুমার। সঙ্গে দক্ষিণের লেডি সুপারস্টার নয়নতারা এবং বিজয় সেতুপতি। বিশেষ চরিত্রে রয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন।

এদিন ভোরের আলো না ফোটার আগেই সিনেমা হলে হাজির হয়েছেন শাহরুখ ভক্তরা। সাতসকালে তাদের গলা ফাটানো চিৎকার এই সিনেমা নিয়ে কী পরিমাণ প্রত্যাশা রয়েছে তারই প্রমাণ। সবার মনে একই প্রশ্ন, শাহরুখের জাওয়ান হিট হবে তো? সত্যি বলতে জাওয়ানের গল্প দুটি আলাদা সময়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে। এটি বিক্রম রাঠৌর এবং আজাদের জীবনের কাহিনি। তাদের পাওয়া-না পাওয়া, হারজিৎ কেন্দ্র করেই এগিয়ে চলে জাওয়ান।

সিনেমা শুরু হতে না হতেই পরিচালক অ্যাটলি তার নিজস্বতার প্রমাণ দিয়েছেন। প্রতিটি ফ্রেমে রয়েছে তার হাতের ছোঁয়া। আছে দক্ষিণী ছাপও। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনিরুদ্ধ রবিচন্দ্রের অসাধারণ আবহসঙ্গীত বা বিজিএম। জাওয়ানের শুরু থেকেই ক্যামেরার কাজ, ধীর গতির অ্যাকশন দৃশ্য, আলো-আঁধারি খেলা, বিজিএম— এক নিমেষে দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করে ফেলার জন্য যথেষ্ট। উচ্চবিত্তের সঙ্গে নিম্নবিত্ত সম্প্রদায়ের পার্থক্য থেকে শুরু করে নানা সামাজিক বার্তাও রয়েছে সিনেমায়।

বলা যায়, সিদ্ধার্থ আনন্দের ‘পাঠান’-এর তুলনায় জাওয়ান অনেক ধাপ এগিয়ে। সিনেমায় বিক্রম এবং আজাদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহরুখ। চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে কখনও ন্যাড়া মাথায়, কখনও বৃদ্ধ হয়ে ধরা দিয়েছেন বলিউড বাদশাহ। সিনেমায় তার প্রতিটি লুকই অনবদ্য।

কখনও শাহরুখের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন নয়নতারা, কখনও দীপিকা। কিন্তু অ্যাকশন সিনেমায় তাদের প্রেমালাপ জাওয়ানের ছন্দে তাল কাটেনি। অন্যদিকে বলিউডে প্রথম কাজ করেও নয়নতারার মধ্যে কোনও জড়তা দেখা যায়নি। তার সাবলীল অভিনয় সত্যিই প্রশংসনীয়।

সিনেমায় খলনায়কের চরিত্রে বিজয় সেতুপতি বেশ ভালো করেছেন। বলিউডে প্রথম কাজ হলেও এর আগে ওটিটিতে হিন্দি ভাষার ওয়েব সিরিজ ‘ফারজি’-তে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনেতা হিসাবে তিনি যে প্রথম সারির সে বিষয়ে কারও সন্দেহ নেই। তবে ফারজিতে হিন্দি ভাষায় বিজয়ের মধ্যে যে জড়তা ছিল জাওয়ানে তা নেই। যদিও ছবির প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধেই যেন নিজেকে বেশি মেলে ধরেছেন বিজয়।

জাওয়ানে বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দীপিকা। কিন্তু পর্দায় তিনি বেশ সময় পেয়েছেন। এর মধ্যেই অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। বাকি পড়ে রইল শাহরুখের নারীবাহিনী। প্রিয়ামণি, সানিয়া মালহোত্রা, সঞ্জিতা ভট্টাচার্য, লেহর খানসহ আরও অনেকে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করলেও তাদের ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ভরপুর অ্যাকশন, জোরদার সংলাপ, হাস্যরসের ছিটেফোঁটা, রোম্যান্স— সব মিলিয়ে জাওয়ান যেন বিরিয়ানি। পরিচালক অ্যাটলি রেঁধেছেনও পাকা রাঁধুনির মতো। প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ ছবি হলেও এক মুহূর্তের জন্যও তাল হারায়নি সিনেমাটি। এছাড়া জাওয়ানে কয়েকটি চরিত্রকে খুব যত্নে লুকিয়ে রেখেছেন অ্যাটলি, যা দর্শকের কাছে সারপ্রাইজই বটে।

তবে এমন নয় জাওয়ানের গল্প দর্শকের অজানা। এর আগে অন্য সিনেমায়, ওয়েব সিরিজে এই গল্পগুলো একাধিক বার দেখানো হয়েছে। কিন্তু সব শেষে পরিবেশনেই বাজিমাৎ করেছেন অ্যাটলি। সাজিয়ে-গুছিয়ে এত যত্ন নিয়ে প্রতিটি গল্প যে ভাবে তিনি জোড়া লাগিয়েছেন, তা প্রশংসাযোগ্য। তাই পুরনো গল্পগুলো নতুন মোড়কে দেখতে মন্দ লাগবে না। সে দিক থেকেও পাঠানকে টপকে গেছে শাহরুখের জাওয়ান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত