আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল জৈব জ্বালানির বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্স (জিবিএ)। গতকাল শনিবার নয়াদিল্লিতে জি-২০ সম্মেলনের মঞ্চে নতুন এই জোটের ঘোষণা আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের নেতৃত্বাধীন এই জোটের সদস্য হলো বাংলাদেশও। ভারতের প্রস্তাবে এই জোটের সদস্য হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কোনো জোটের সদস্য হলো বাংলাদেশ। এর ফলে জিবিএ জোটের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, কার্বন নির্গমনের শূন্য লক্ষ্যমাত্রা পূরণে জোটটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্য থেকে প্রাপ্ত জৈব জ্বালানির ব্যবহার ত্বরান্বিত করবে। এ ছাড়া জৈব জ্বালানির ব্যবহার রপ্ত করতে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবে।
প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও এই জোটে আছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইতালি, মরিশাস, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর বাইরে কানাডা ও সিঙ্গাপুর আছে পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে। আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের ঘোষণার সময় কানাডা ও সিঙ্গাপুর ছাড়া বাকি দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
জোটের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমরা গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্স চালু করছি। ভারত আপনাদের সবাইকে এই উদ্যোগে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।’
এনডিটিভি বলছে, সাশ্রয়ী সৌরশক্তি সবার নাগালে আনতে ২০১৫ সালে নয়াদিল্লি এবং প্যারিস যে আন্তর্জাতিক সৌর জোট গঠন করেছিল, এটি সেই জোটেরই প্রতিফলন। সব মিলিয়ে ১৯টি দেশ ও ১২টি আন্তর্জাতিক সংস্থা বা জোট জিবিএর সদস্য হতে আগ্রহী।
ভারতের তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী চলতি বছর জুলাইয়ে বলেছিলেন, জোটটি বিশ্বব্যাপী জৈব জ্বালানি বাণিজ্যকে উৎসাহ, দৃঢ় নীতি গ্রহণ এবং বিশ্বব্যাপী জাতীয় জৈব জ্বালানি কর্মসূচির জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রচার করবে।
পরিবহন, হিটিং, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন কাজে জৈব উৎস থেকে উৎপাদিত বায়োফুয়েল জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে ব্যবহার করা যায়। জৈব জ্বালানিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির একটি উৎস বলেও মনে করা হয়। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার একটি জৈব জ্বালানি নীতি গ্রহণ করে। এর আওতায়, পেট্রোল ও অকটেনের সঙ্গে ৫ শতাংশ বা সরকার অনুমোদিত যেকোনো অনুপাতে, বায়ো-ইথানল মিশ্রণ করে যানবাহনে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রয়েছে।
আমদানি করা ভুট্টা শস্য, গুড়, পুরনো নিউজ পেপার, তুষ, ভুট্টার গাছ, আখের ছোবরা, বাতিল সুতা ও তুলা, ধানের খড়, গাছের বাকল, সবজির পরিত্যক্ত অংশ এবং কচুরিপানা ইত্যাদি ইথানলের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে সহযোগিতা দিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বায়ো-ইথানল উৎপাদন, প্ল্যান্ট স্থাপন ও ব্যবহারের একটি পরিকল্পনাও প্রণয়ন করে।
