দুর্নীতির মামলায় কারাগারে বিএনপি নেতা আমান

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:৪৯ এএম

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। হাইকোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এ আত্মসমর্পণ করে জামিন চান আমান। আদালতের বিচারক আবুল কাশেম জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

একই মামলায় হাইকোর্টে তিন বছরের সাজা বহাল রয়েছে আমানের স্ত্রী সাবেরা আমানের। ৩ সেপ্টেম্বর তিনি একই আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পরদিন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে জামিন চাইলে ক্যানসার রোগী বিবেচনায় তাকে জামিন দেয় চেম্বার আদালত।

ঢাকা মহানগর (উত্তর) বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য আমান গতকাল দুপুর ১২টার দিকে আত্মসমর্পণ করতে আদালত চত্বরে আসেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা হাজির হয়ে সরকারবিরোধী সেøাগান দেন। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমানকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়া ও উন্নত চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। আদালত কারাবিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা এবং চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

২০০৭ সালের ৬ মার্চ আমান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুদক। বিচার শেষে ওই বছরের ২১ জুন আমানকে ১৩ বছর ও সাবেরাকে তিন বছর কারাদ- দেয় বিশেষ আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দুজন আপিল করেন। ২০১০ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট তাদের খালাস দেয়। পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। ২০১৪ সালের ২৬ মে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে মামলাটি পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয়। গত ৩০ মে হাইকোর্ট আমান ও তার স্ত্রীর সাজা বহাল রেখে রায় দেয়। রায়ের অনুলিপি পাওয়া সাপেক্ষে ১৫ দিনের মধ্যে দুজনকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এর ধারাবাহিকতায় আমানউল্লাহ আমান আত্মসমর্পণ করেন।

আদালতে আমানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আপিল বিভাগে জামিনের আবেদন করব। আশা করি উচ্চ আদালত ন্যায়বিচার করবেন এবং তিনি মামলা থেকে খালাস পাবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত