নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ডাকাতের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এরপর রাতভর পুলিশের অভিযানে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও ৯জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত পুলিশের এক সদস্য ও পুলিশের ওপর হামলাকারী গুলিবিদ্ধ ফাহিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত শনিবার রাতে আড়াইহাজার থানার বিষনন্দী এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরে গতকাল রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আড়াইহাজার থানার বিষনন্দী এলাকায় ৬-৭ জনের ডাকাত দল মোটরসাইকেল আরোহী দুজনের গতিরোধ করে। পরে তাদের মোটরসাইকেল, টাকা, মোবাইল ফোনসহ মালামাল লুটে নেয়। এ খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানার টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া করে ডাকাত জুয়েলকে আটক করলেও সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
পরে জুয়েলের তথ্যমতে আড়াইহাজার ও ডেমরা থানার পুলিশ যৌথভাবে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় রুমে থাকা ডাকাতরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। জানমাল রক্ষার্থে পুলিশও শটগানের গুলি ছুড়ে। এতে ডাকাত মিনহাজুল আবেদীন ফাহিম গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় পুলিশের একটি অস্ত্রও ভেঙে যায়। পরে পুলিশ সেখান থেকে কয়েকজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে পুলিশ নরসিংদীতে অভিযান চালিয়ে এক ডাকাতকে গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মোটরসাইকেলসহ মালামাল উদ্ধার করে।
অপরদিকে, বরিশালের মুলাদীর চরগৌরবদী ইউনিয়নের কানাবগীর চরে পুলিশের অভিযানের সময়ে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, অভিযান চলাকালে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়ে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীদের ঘেরাও করে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ডাকাতির জন্য জড়ো হয়েছিল।
গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় বরিশাল পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার হিজলা থানার চরগৌরবদী ইউনিয়নের কানাবগীর চরে অভিযান চালায় মুলাদী থানা পুলিশ। এ সময় রাজীব চৌধুরী চর পাহারা ঘরের কাছাকাছি পৌঁছালে সেখানে অবস্থানরত সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
এসপি বলেন, গ্রেপ্তাররা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতির জন্য জড়ো হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। আসামিদের কাছ থেকে পাইপগান, কার্তুজ ও ধারালো অস্ত্রসহ ডাকাতির বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।
