সাংবাদিক নাদিম হত্যার আসামি তাঁতী লীগের সভাপতি

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:১৪ এএম

জামালপুরের বকশীগঞ্জে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যার প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবুকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। গত সোমবার বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। এ জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

এদিকে একইদিন সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলার আসামি সহিদুর রহমান লিপনকে আবারও সভাপতি করে বকশীগঞ্জ উপজেলা তাঁতী লীগের কমিটি অনুমোদন দিয়েছে জামালপুর জেলা তাঁতী লীগ। এর আগে নাদিম হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার পর সমালোচনার মুখে লিপনকে তাঁতী লীগের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

সাংবাদিক নাদিম হত্যার প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবুকে গত সোমবার জামিন দেওয়া হলেও বিষয়টি গতকাল মঙ্গলবার জানা যায়। এ জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষে গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় হাইকোর্ট যে আসামিকে জামিন দিয়েছেন, তার জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আগামীকাল (আজ) তা কার্যতালিকায় আসবে।’

বাবুর জামিন আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আনোয়ারা শাহজাহান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জামিনের বিরোধিতা করে আদালতকে বলেছি, ঘটনার মূল আসামি তিনি (বাবু)। এজাহারে সাংবাদিক নাদিমকে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যার কথা বলা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা (তিন আসামি) তাকে হত্যা করে চেয়ারম্যানের (বাবু) বাসায় গিয়ে ঘটনা বলেছে। যেহেতু তিনি সরাসরি ঘটনায় জড়িত ননÑ এমন যুক্তিতে বাবুকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন আদালত। ইতিমধ্যে বিষয়টি অবহিত করে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নোট দেওয়া হয়েছে এবং জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।’

সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি বকশীগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান (পরে বরখাস্ত) মাহমুদুল আলম বাবু।

 

ফের তাঁতী লীগের সভাপতি লিপন : গত সোমবার জামালপুর জেলা তাঁতী লীগের আহ্বায়ক জাকির হোসেন রুকু এবং সদস্য সচিব আরমান হোসেন সাগরের যৌথ স্বাক্ষরে আগামী তিন বছরের জন্য সহিদুর রহমান লিপনকে উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি করে দলীয় প্যাডে ৭১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে সাংবাদিক নাদিম হত্যায় লিপনের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসায় দলীয় ভাবমূর্তি প্রচণ্ডভাবে ক্ষুণেœর অভিযোগে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে গত ১৭ জুন জেলা তাঁতী লীগের আহ্বায়ক জাকির হোসেন রুকু ও সদস্য সচিব আরমান হোসেন সাগরের যৌথ স্বাক্ষরে বকশীগঞ্জ উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি পদে থেকে সহিদুর রহমান লিপনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। সেই লিপনকেই ফের উপজেলা তাঁতী লীগের নতুন কমিটিতে সভাপতি করা হলো। সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলার ১১ নম্বর আসামি তিনি।

এ বিষয়ে সহিদুর রহমান লিপন বলেন, ‘আমাকে সভাপতি করে দুই মাস আগেই কমিটি জমা দেওয়া ছিল। গতকাল (সোমবার) পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই মামলায় আমাকে ষড়যন্ত্র করে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। এ মামলায় আমি বর্তমানে ছয় সপ্তাহের জামিনে আছি।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জামালপুর জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি জাকির হোসেন রুকুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বকশীগঞ্জের সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলম বাবুকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ১৪ জুন হামলার শিকার হন বাংলানিউজের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি ও মানবজমিন পত্রিকার সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এরপর রাত ১২টায় সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৫ জুন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সাংবাদিক নাদিমের। এ ঘটনায় ১৮ জুন তার স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বাবুকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫ জনকে আসামি করে বকশীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত