সরকারি কর্তার সিন্ডিকেটে সার নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:৩৭ এএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছে না কৃষক। সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে সার বিক্রি হচ্ছে উচ্চমূল্যে। এ ছাড়া বিসিআইসির বাফার গুদাম ও বিএডিসির গুদাম থেকে সার উত্তোলনের পর তদারকির অভাবে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এক উপজেলা থেকে সার যাচ্ছে অন্য জেলা বা উপজেলায়। ডিলাররা অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে। এতে সরকারের ভর্তুকি দিয়ে কেনা সার কৃষক নির্ধারিত মূল্যে পাচ্ছেন না। আর অভিযোগ রয়েছে, সার নিয়ে সিন্ডিকেট ও অনিয়মের পেছনে রয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত একজন কর্মকর্তা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলায় বিসিআইসির ১৪ জন ডিলার রয়েছেন। কার্ডধারী খুচরা বিক্রেতা রয়েছে ১১৮ জন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা এবং টিএসপি সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা। কিন্তু কৃষকরা জানিয়েছেন তাদের বাজার থেকে সাদা ইউরিয়া ১ হাজার ৪০০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৩০০ টাকা ও টিএসপি ১ হাজার ৯০০ টাকায় প্রতি বস্তা কিনতে হচ্ছে। বিক্রেতাদের কাছে ক্যাশ মেমো চেয়েও তারা পাচ্ছেন না।

রবিশষ্য মৌসুমে সারের চাহিদা অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় বরাদ্দকৃত সার বিসিআইসি বাফার গুদাম ও বিএডিসি গুদাম থেকে উত্তোলনের পর গুদামে না নিয়ে চড়ামূল্যে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করছেন ডিলাররা।

জানা যায়, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রহমান কলাপাড়া কৃষি অফিসে যোগ দেন ২০০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। একই কর্মস্থলে প্রায় ১৭ বছর ধরে কর্মরত থাকায় ডিলারদের নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন সার সিন্ডিকেট। কৃষি অফিস, জেলা খামারবাড়ী, সার-বীজ মনিটরিং কমিটি ম্যানেজ করে কলাপাড়া পৌর শহরের একজন বিসিআইসির ডিলারের মাধ্যমে তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন সিন্ডিকেট। উপজেলার একাধিক বিসিআইসির সার ডিলারের লাইসেন্স বাৎসরিক ভিত্তিতে ভাড়া নিয়ে ওই ডিলার ব্যবসা করলেও কৃষি অফিসের তথ্যে সার উত্তোলন ও বিক্রিতে স্ব স্ব লাইসেন্সধারীদের নামই রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মহিপুর ইউনিয়নের খুচরা সার ডিলার মিজান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আবদুর রশিদ খান মারা যান বেশ ক’বছর আগে। কিন্তু তার লাইসেন্সের বরাদ্দ ছাড় হচ্ছে প্রতি মাসেই। লতাচাপলি ইউনিয়নের খুচরা ডিলার রশিদ সর্দার, আশরাফুজ্জামান বাবু, রিয়াজ মোর্শেদ ও জুলহাস খান জালালের লাইসেন্স এক লাখ টাকা অগ্রিম ও মাসিক ভাড়ায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সার ব্যবসা করছেন মধ্যস্বত্বভোগী রুবেল, শহিদ মুসুল্লী, বশির মোল্লা ও জাহাঙ্গীর মুসুল্লী। লতাচাপলি ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার রতন তালুকদার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মারা যাওয়ার পর নীতিমালা অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের ডিলারকে বরাদ্দ দেওয়ার কথা। কিন্তু তা না করে বরাদ্দের সার দেওয়া হচ্ছে পৌর শহরের খান ট্রেডার্সকে। অথচ পৌরসভায় আবাদি জমি মাত্র ৭৩ হেক্টর। অন্যদিকে লতাচাপলিতে ৩ হাজার ৭৪০ হেক্টর ও পাশর্^বর্তী নীলগঞ্জে ৩ হাজার ৮৯৫ হেক্টর।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রহমানকে দুদিন ধরে কয়েকবার কল করলেও তিনি ধরেননি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এআরএম সাইফুল্লাহ বলেন, ‘সারের কোনো সংকট নেই। কেউ সার নিয়ে অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সার বিক্রি তদারকিতে ইউপি সচিবদের ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। গত ছয় মাসে কৃষি অফিস সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাত্র একটি সভা করেছে। এ ছাড়া সারসংক্রান্ত বিষয়ে তারা আমাকে কোনো কিছু অবগত করেনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত