নারায়ণগঞ্জে শহরের প্রধান কাঁচামালের বাজার দিগুবাবুর বাজারে প্রবেশ করতে হয় মীর জুমলা সড়ক দিয়ে। প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে ছোট ছোট চৌকিতে কাঁচা সবজি, মাছ, মুরগি, আলু—পেঁয়াজ ও ফলসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে বিক্রেতারা। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে সৃষ্ট কাদা, মাছের পানি, ফেলে দেয়া পচা সবজি ও বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে জমে থাকা আবর্জনার দুর্গন্ধে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয় জনসাধারণকে। নাকে রুমাল দিয়ে কেনাকাটা করতে দেখা যায় নগরবাসীকে।
এ হলো মীর জুমলা সড়কের চিত্র। এ সড়ক নিয়ে বহু ঘটনার জন্ম হলেও কোনো সুরাহা হয়নি বছরের পর বছর। প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন এই সড়ক দখল করে কাঁচা তরিতরকারি ও ফলমূলের দোকান বসিয়ে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। সিটি করপোরেশনও এ ব্যাপারে নির্বিকার।
সড়কটি দখল করে বাজার গড়ে তোলায় নাসিক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বছরের পর বছর সড়কটি বন্ধ করে বাজারে পরিণত করা হয়েছে। মাছ থেকে শুরু করে শাক-সবজি এমন কি অস্থায়ীভাবে মুরগির দোকান বসিয়ে সড়কটিতে যান চলাচল তো দূরের কথা মানুষ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আর এই সড়কটি বন্ধ থাকায় নগরীতে যানজট নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সময় মেয়র আইভী এ বাজার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এখন তাকে এ বাজার নিয়ে আর কিছু বলতে দেখা যায় না।
এ ব্যাপারে বিবি রোড এলাকার বাসিন্দা পরিবেশকর্মী সুজীত সরকার বলেন, ‘মীর জুমলা ইতিহাসের একজন নামকরা ব্যক্তি। তার নামে সড়কটির নামকরণ। যানজটের শহর নারায়ণগঞ্জে চলাচলের রাস্তা এভাবে দখল করে বাজার বানিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘটনা বিরল। এক সময় এই সড়ক দখলমুক্ত করতে গিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী বাজার উচ্ছেদ করতে এসে হামলার শিকার হয়েছিলেন। দখলদারদের ইটের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছিলেন ইনকিলাবের ফটো সাংবাদিক শ্যামল। সড়ক দখলমুক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘদিন ময়লা ফেলে বন্ধ করে রেখেছিলেন মেয়র। পরবর্তীতে তারই লোকজন পুরো বাজার দখলে নিয়ে দোকান বসিয়ে ৬ দফায় টাকা আদায় করতে দেখা যায়। যা খুবই লজ্জাজনক।’
দোকানিরা বলেছেন, প্রতিদিন আমাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে যাচ্ছে বাজারের ইজারাদার মতিন মিয়া। সে মেয়রের ভাই উজ্জলের (মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক) বন্ধু। মীর জুমলা সড়কের দুপাশে তিন শতাধিক দোকান বসানো হয়। একেক দোকানে ৩ ঘণ্টা করে ব্যবসা করার সুযোগ পাই। এর বিনিময়ে চাঁদা দিতে হয় ১০০/১৫০ টাকা। এভাবে মাসে অর্ধকোটির নেয়া হয়। এতো টাকা নেয়ার পরও বাজারের উন্নয়নে কিছুই করা হয় না। সব পকেটে ভরে।
আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এক সময় এই রাস্তা দিয়ে বাস চলাচল করতো। বর্তমানে এই রাস্তা দিয়ে হেঁটেই যাওয়া যায় না। পুরো রাস্তাজুড়েই ব্যবসায়ীরা দখল করে তাদের পণ্য সাজিয়ে বসে থাকেন। এটা শহরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দাবি, শহরবাসীর সুবিধার্থে এই রাস্তাটি যেন মুক্ত করা হয়। তাহলে শহরের যানজটও কমে আসবে।
সিটি করপোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস বলেন, মীর জুমলা সড়কে দোকানপাট বসানোর কোনো অনুমতি নেই। এখানে বসার জন্য কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। এ সড়কে যারা বসেন সবাই অবৈধভাবে বসে থাকেন। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। সেই সঙ্গে বাজারে ময়লা জমে থাকার কথা না। নিয়মিত ময়লা—আবর্জনা অপসারণ করা হয়ে থাকে।
