চুরির মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে ফের চুরি

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:৩৬ এএম

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা এলাকার বাস্তুহারা কলোনির বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী মো. রিপন। মোটরসাইকেল চুরি করাই তার নেশা ও পেশা। স্থায়ী বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নে। বাবার নাম আবদুল আলীম। গত বুধবার রাতে কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুমিল্লা থেকে দুই সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রিপনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, চলতে-ফিরতে চুরি করেন রিপন। গ্রেপ্তারের পর তার চক্রের হেফাজত থেকে ১৩টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগেও একাধিকবার মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন রিপন। কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবীর বলেন, ‘রিপন দুর্ধর্ষ বাইক চোর। চুরির মামলায় হাজিরা দিতে এসে আদালত থেকে বাইক চুরি করে কুমিল্লায় ৩০-৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন তিনি। সেখান থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে সীতাকুণ্ড বা মিরসরাই থেকে সুযোগ বুঝে বিভিন্ন বিক্রয় প্রতিনিধির বাইক চুরি করে মহেশখালীতে বিক্রি করতেন। আবার সেখান থেকে ফেরার পথে সাতকানিয়া বা লোহাগাড়া থেকে বাইক চুরি করে কুমিল্লায় নিয়ে কম দামে বাইক বিক্রি করে দেন।’

রিপনের গ্রেপ্তার হওয়া দুই সহযোগী হলেন আবদুল কাদের জিলানী অভি (২৬) ও সজীবুল ইসলাম (২১)। এর মধ্যে অভি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার ঢিমাতলী চিওড়া এলাকার মৃত মনু মিয়ার ছেলে। আর সজীব কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী এলাকার মো. মোস্তাকের ছেলে।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলা তদন্তে নেমে দুর্ধর্ষ মোটরসাইকেল চোর মো. রিপনের হদিস পান তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওসি জাহিদুল জানান, চুরির মামলায় হাজিরা দিতে এসে আদালত চত্বর থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে রিপন। খবর পেয়ে গত বুধবার নগরীর ফিরিঙ্গিবাজার এলাকা থেকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ রিপনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কুমিল্লা থেকে অভি ও মহেশখালী থেকে সজীবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভির কাছ থেকে আটটি ও সজীবের কাছ থেকে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, রিপনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরের দুই থানা এবং ফেনী ও কুমিল্লা জেলায় মোটরসাইকেল চুরির আটটি মামলা আছে। আর অভির বিরুদ্ধে আছে মোটরসাইকেল চুরির পাঁচটি মামলা। চুরির মামলায় যতবারই চট্টগ্রামের আদালতে হাজিরা দিতে আসতেন রিপন সুযোগ বুঝে মোটরসাইকেল চুরি করে কুমিল্লায় নিয়ে অভির কাছে ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিতেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত