ঝালকাঠিতে ছাত্রলীগের সাবেক জেলা সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনের বিরুদ্ধে দুটি পরিবারের চলাচলের পথ দেওয়াল তুলে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন শহরের ডাক্তারপট্টি এলাকার বাসিন্দা মঞ্জু বেগম। সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জু বেগমের পক্ষে তার জামাতা হাসান মাহামুদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঝালকাঠি শহরের ডাক্তারপট্টি এলাকায় জনৈক মৃত হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলন প্রায় পাঁচ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেখানে সৈয়দ টাওয়ার নামে একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেন মিলন। ভবনের পেছনে রাজ্জাক আলীর ওয়ারিশ দুই মেয়ে অঞ্জু বেগম ও মঞ্জু বেগম পরিবার নিয়ে পৌনে দুই শতাংশ সম্পত্তিতে বসবাস করেন। এ ছাড়া এর পাশে অপর রেকর্ডীয় মালিক মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হাসান মাহমুদের দেড় শতাংশ সম্পত্তি রয়েছে। দুটি পরিবারের প্রধান সড়কে চলাচলের জন্য প্রায় চার ফুট প্রশস্তের একটি রাস্তা রয়েছে। গত বুধবার রাতের আঁধারে হাদিসুর রহমান মিলনের লোকজন দেওয়াল তুলে ওই রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় তারা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়ালে আংশিক ভেঙে দিয়ে চলাচলের পথ স্বাভাবিক করে দেয়।
অঞ্জু বেগম বলেন, ‘রাতের আঁধারে হাদিসুর রহমান দেওয়াল দিয়ে আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলন বলেন, ‘আমি রেকর্ডীয় মালিকদের কাছ থেকে সাত শতাংশ জমি ক্রয় করে ভবন নির্মাণ করেছি। অবশিষ্ট জমিতে কিছুদিনের জন্য রাজ্জাক আলীর মেয়েদের মানবিক কারণে থাকতে দিয়েছি। এখন তারা জমি ছাড়তে চায় না। তাই আমি আমার জায়গায় দেওয়াল নির্মাণ করেছি।’
ঝালকাঠি সদর থানার ওসি নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আমরা চলাচলের পথ স্বাভাবিক করে দিয়েছি। বিষয়টা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
