দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব ও ব্যর্থ দল বিএনপির মুখে প্রবল আন্দোলনের কথা মানায় না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘তাদের (বিএনপির) তথাকথিত লাগাতার আন্দোলন, কঠোর আন্দোলন, এক দফার দুর্বার আন্দোলন! সবকিছু ব্যর্থ হওয়ার পরও তারা ক্ষমতা দখলে উন্মত্ত ও মরিয়া।’
গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাস্তবতা-বিবর্জিত অর্বাচীন বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি নেতারা রাজনৈতিক বাস্তবতা উপলব্ধি না করে ক্রমাগতভাবে কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের সক্ষমতার পারদ যত নিম্নগামী হচ্ছে, ততই তারা মিথ্যা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশের সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একটি চিহ্নিত মহল অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতায় বসার স্বপ্নে বিভোর। তারা দেশের পবিত্র সংবিধান ও আইনের তোয়াক্কা করে না।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চাই, সংবিধানের বিধান ছাড়া কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে? আপনাদের ক্ষমতায় বসানোর নিশ্চয়তায় কোনো পাতানো নির্বাচন? বেনিয়াদের কাছে দেশের স্বার্থ বিক্রি করে যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা দখলের নির্বাচন? বাংলার মাটিতে জনগণ তা আর কোনো দিন হতে দেবে না।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি সব সময় ভিন্ন উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে ভোটাধিকার হরণ করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার রাজনীতি করে। আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করে তা বাস্তবায়ন করে। সে কারণে জনগণ বারবার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।’
জনকল্যাণ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য উন্নত, সমৃদ্ধ, শান্তি ও কল্যাণের রাষ্ট্র বিনির্মাণ আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূল লক্ষ্য বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপির পুরো টিমই রাজনীতির মাঠে যথেচ্ছভাবে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে সারা দেশে স্বাধীনভাবে সভা-সমাবেশ করছে। একুশে আগস্টের মাস্টারমাইন্ড দ-প্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমান বিদেশে বসে লাগাতারভাবে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।’
উসকানির মাধ্যমে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভুলে যাওয়া উচিত নয়, তারা আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারেনি। বরং খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক উদারতার কারণে। একজন দন্ডপ্রাপ্ত আসামি হয়েও খালেদা জিয়া বাসায় থেকে দেশের সর্বাধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন। সেজন্য মির্জা ফখরুলদের উচিত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। অথচ বিএনপি বরাবরই খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অপরাজনীতি করে আসছে।’
