গত আইপিএলে পাওয়া চোট কাটিয়ে লম্বা সময় পর এশিয়া কাপ দিয়ে দলে ফেরা। এরপর আর পেছন পানে নয়, লোকেশ রাহুল দুর্বার গতিতে কেবল ছুটে চলছেন। একের পর এক ম্যাচে মেলে ধরছেন ব্যাটিং মাস্টারক্লাস। শেষ ম্যাচটিতেই যেমন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে দায়িত্বশীল ইনিংসে ভারতকে এনে দিয়েছেন দারুণ জয়। দিল্লিতে আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষেও স্টাইলিশ এই ব্যাটসম্যানের কাছে ভালো কিছুর প্রত্যাশা করবে স্বাগতিকরা। তবে তাকে এবার পড়তে হবে আফগান স্পিন চ্যালেঞ্জের মুখে। দলটিকে যে বিভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সময়ের অন্যতম সেরা স্পিনার রশিদ খান। নিজের দিনে যিনি একাই গুঁড়িয়ে দিতে পারেন যেকোনো দলের ব্যাটিং। শেষ পর্যন্ত কার মুখে ফুটবে হাসি, সেটা দেখার অপেক্ষা এখন।
কয়েক মাস আগেও রাহুলকে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে চলছিল প্রবল আলোচনা-সমালোচনা। তাকে দলে রাখা নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন। সেই সময়ের কথা মনে পড়লে এখনো খারাপ লাগে ৩১ বছর বয়সী ক্রিকেটারের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাহুল বলেন, ‘একটা সময় আমাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। আমার পারফরম্যান্স ততটাও খারাপ ছিল না যে এত সমালোচনা হবে। ওই দিনগুলো খুব কষ্ট দিত।’ আর এখন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ভাসছেন প্রশংসার স্রোতে। সুযোগ থাকলে তাকে মাথায় তুলে নাচত ভারতীয়রা।
যার শুরুটা হয়েছে গত এশিয়া কাপ থেকে। আইপিএলে পাওয়া ঊরুর চোট থেকে সেরে উঠে পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে দলে ফেরেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে অপরাজিত ১১১ রানের ইনিংস খেলে রাঙান ফেরার ম্যাচ। এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আর তেমন কিছু করতে না পারলেও ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে টানা দুটি ফিফটি হাঁকান তিনি। একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিশ^কাপে প্রথম ম্যাচে করেন অপরাজিত ৯৭। কঠিন উইকেটে ২০০ রানের লক্ষ্যে ২ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে জেতান বিরাট কোহলির সঙ্গে ১৬৫ রানের জুটি গড়ে।
আফগান ম্যাচের আগে ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ৬ সেঞ্চুরিতে ২ হাজারের বেশি রান করা রাহুলকে ভাবাতে পারেন রশিদ। কারণ দলটির সঙ্গে এই সংস্করণে দুইবারের দেখায় ঘূর্ণি জাদুকরের বলে একবার আউট হওয়ার তেতো অভিজ্ঞতা আছে তার। আইপিএলে ৬ ম্যাচে রশিদের মুখোমুখি হয়ে তিনবার সাজঘরে ফিরেছেন রাহুল। দুজনের মধ্যে আরেকটি লড়াই দেখা যেতে পারে এই ম্যাচেও। তবে সাম্প্রতিক সময়ের ফর্ম, সঙ্গে ঘরের মাঠের পরিচিত কন্ডিশনের সহায়তা থাকায় রাহুলের এগিয়ে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
লড়াইয়ে অবশ্য খুব একটা পিছিয়ে থাকার কথা নয় আফগানিস্তানের ‘পোস্টার বয়’ রশিদের। ভারতের বিপক্ষে কেবল দুই ওয়ানডে খেললেও এই দলের ক্রিকেটারদের বেশ ভালো করেই জানা তার। দেশটির ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলের যে নিয়মিত মুখ ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। এখানকার মাঠ, কন্ডিশন সম্পর্কে বেশ অভিজ্ঞতা আছে তার। এখন পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে ১০৯ ম্যাচ খেলা লেগ স্পিনারের শিকার ১৩৯ উইকেট। আইপিএলে উইকেট শিকারির তালিকায় প্রথম ২০ জনের মধ্যে ওভারপ্রতি তার (৬.৬৭) চেয়ে কম রান দেননি আর কেউ।
যদিও আফগান তারকার সাম্প্রতিক সময়টা ভালো যাচ্ছে না। বিশে^র নানা প্রান্তে খেলা ভয়ংকর এই স্পিনার বৈশি^ক আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে কিছুই করতে পারেননি তিনি, ৪৮ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। দলও হেরে গেছে ৬ উইকেটে। সবশেষ ৫ ওয়ানডেতে রশিদের শিকার কেবল ৩ উইকেট। তার মানের বোলারের নামের পাশে যা বড্ড বেমানান।
ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে, জয়ের মঞ্চ তৈরি করতে হলে আফগানিস্তানের জন্য রশিদ খানের জ¦লে ওঠার বিকল্প নেই। আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদিও গতকালের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন একই কথা। তাদের আশা, নিজেকে আরও একবার মেলে ধরতে পারবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি রশিদ। দলের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন এই তারকা, সেটাই এখন দেখার।
