ওয়ানডে অভিষেকের পর আরেকটি ম্যাচ খেলতে দুই বছরের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল ডাভিড মালানকে। এরপর যখন ফিরলেন, বোধহয় পণ করেছিলেন দলে থিতু হওয়ার। যেই চাওয়া, সেই কাজ। করতে শুরু করেন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স। খেলতে শুরু করেন দারুণ সব ইনিংস। তাতে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপের দলে পাকা করে ফেললেন নিজের জায়গা। ইংলিশদের বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানেও এই বাঁহাতি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
নিজের প্রথম বিশ্বকাপের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি মালানের। গতবারের রানার্স আপ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে কেবল ১৪ রান করেন এই ওপেনার। তবে ঘুরে দাঁড়াতে একদমই দেরি করেননি তিনি। ছন্দে থাকার প্রমাণ দেন পরের ম্যাচেই। বাংলাদেশের বোলারদের গুঁড়িয়ে খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ১৪০ রানের ইনিংস। তার সৌজন্যে ৩৬৪ রানের বড় পুঁজি গড়ে ইংল্যান্ড। পরে সাকিব আল হাসানের দলকে ২২৭ রানে আটকে দিয়ে ১৩৭ রানের বড় জয় তুলে নেয় শিরোপাধারীরা। দিল্লিতে আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে নামবে ইংল্যান্ড। দলকে ভালো শুরু এনে দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে মালানের কাঁধে। দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারার কথা তার। অসাধারণ ধারাবাহিকতায় রানের স্রোত যে বইয়ে চলেছেন ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। ওয়ানডে ক্রিকেটে কমপক্ষে এক হাজার রান করেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মালানের (৬৩.১৫) চেয়ে বেশি গড় কেবল নেদারল্যান্ডসের সাবেক ব্যাটসম্যান রায়ান টেন ডেসকাট ও ভারতের শুবমান গিলের। চলতি বছর তো দুর্দান্ত ফর্মে আছেন ইংলিশ এই ক্রিকেটার। তার ছয় ওয়ানডে সেঞ্চুরির চারটিই এসেছে ২০২৩ সালে। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের হয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডে জনি বেয়ারস্টোকে স্পর্শ করেন মালান। ২০১৮ সালে কিপার-ব্যাটসম্যান বেয়ারস্টোও করেছেন ৪টি সেঞ্চুরি।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে স্রেফ একটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে মালানের, সেটাও টি-টোয়েন্টিতে। তাই অপরিচিত একটি দলের মুখোমুখি হওয়া তার জন্য একটু চ্যালেঞ্জিংই হবে। আফগানিস্তানের স্পিন বোলিং বিভাগ তো বিশ্বের যেকোনো ব্যাটসম্যানের জন্যই চিন্তার কারণ। রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, মোহাম্মদ নবির মতো বিশ্বমানের স্পিনার আছেন এই দলে। আর স্পিনে মালানের দুর্বলতা নিয়ে কথা হয় প্রায়ই। যদিও এখন অনেকটাই সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠেছেন সেরা সময়ে থাকা এই ব্যাটসম্যান। তাই রশিদ-মুজিবদের স্পিন সামলে ভালো ইনিংস উপহার দেবেন মালান, আশা করতেই পারে ইংল্যান্ড।
আফগানিস্তান চেয়ে থাকবে তাদের অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদির দিকে। নেতৃত্বে দিয়ে যেমন, ব্যাট হাতেও তেমনি দলে অবদান রাখতে হবে তার। দলটির ব্যাটিং লাইন আপের স্তম্ভ যে তিনি। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও এখন খেলেন মিডল অর্ডারে। বলা যায়, তাকে ঘিরেই এগোয় আফগানদের ইনিংস। একপ্রান্ত আগলে রেখে তিনিই টেনে নেন দলকে।
বিশ্বকাপে গত ম্যাচে ভারতে বিপক্ষেও একই কাজ করেছেন তিনি। চারে নেমে ৮৮ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে কক্ষপথে ফেরান আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের সঙ্গে ১২১ রানের জুটি গড়ে। ২৭২ রানের পুঁজি গড়েও অবশ্য স্বাগতিকদের হারাতে পারেনি আফগানরা।
বিশ্বকাপের আগে খেলা এশিয়া কাপেও ভালো করেছেন শাহিদি। টানা দুই ম্যাচে করেছিলেন ফিফটি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫১ রান করার পর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খেলেন তিনি ৫৯ রানের ইনিংস। দায়িত্বশীল ব্যাটিং করার সামর্থ্য থাকলেও ধারাবাহিকভাবে রান করতে ভুগতে দেখা যায় ২৮ বছর বয়সী শাহিদিকে। ক্যারিয়ারের শুরুতে তাই দলে থিতু হতে পারেননি তিনি। ওয়ানডেতে ব্যাটিং গড় মাত্র ৩২.৮৫। এই সংস্করণে সম্ভাবনাময় ইনিংসগুলোকেও বেশি বড় করতে বরাবরই ব্যর্থ ২৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। ৬৬ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে তাই এখন অবধি কোনো সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। সর্বোচ্চ ৯৭ রান করেছেন ২০১৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
ইংল্যান্ডের সঙ্গে স্রেফ একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছে শাহিদির। সেটাও চার বছর আগে। ২০১৯ বিশ্বকাপের ওই ম্যাচে অবশ্য হেসেছিল শাহিদির ব্যাট, খেলেছিলেন ৭৬ রানে ইনিংস। আজ ভালো করার আত্মবিশ্বাস তাই ওই ম্যাচ থেকে নিতেই পারেন এই ব্যাটসম্যান। এক ম্যাচের অভিজ্ঞতা দিয়ে কতদূর যেতে পারেন শাহিদি, দলে কতটা অবদান রাখতে পারেন, সেটা তোলা থাক সময়ের হাতে। তবে ইংলিশদের চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে, চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে হলে দায়িত্ব নিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে আফগান অধিনায়ককেই।
