আগামী মাসেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তাই জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) সতর্ক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়ার অর্থ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হয়েছে এটা জনগণকে দেখাতে হবে।
গতকাল শনিবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা অনুষ্ঠানে সিইসি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন কর্মযজ্ঞ। খুব সহজ নয়। চাইলাম হয়ে গেল, এরকম নয়। আপনারা যারা জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার এবং আপনাদের সহকর্মীদের উদয়াস্ত পরিশ্রম করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর অনেকটা ঘুমই হারাম হয়ে যাবে, আমাদেরও। যেহেতু এই দায়িত্ব আপনাদের এবং আমাদের ওপর অর্পিত হয়েছে, কাজেই দায়িত্বটা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।’
কর্মকর্তাদের অনুরোধ করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, জনগণকে দেখাতে হবে ভোটাররা নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পেরেছেন। পুলিশ এবং নির্বাহী প্রশাসনের ভূমিকা ও গুরুত্ব নির্বাচনে অপরিসীম।
তিনি বলেন, ‘আমি অনেককেই বলি, যখন আমরা সরকার বলি, সরকার বলতে আমরা এসপি এবং ডিসিকেই বুঝি, ছোটবেলা থেকেই, শৈশব থেকেই। ছোট্ট যে সরকারটা পড়ে আছে কেবিনেটে, ওটার সঙ্গে আমাদের জনগণের সংশ্রব ওভাবে হয় না। কাজেই আপনাদের চিত্তে ধারণ করতে হবে যে, আপনারা সরকারকে ধারণ করছেন। আপনারা সরকারি কর্মকর্তা, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা। এটাও কিন্তু মস্তিষ্কে ধারণ করতে হবে।’
সিইসি বলেন, ‘প্রায় ১২শ নির্বাচন আমরা করেছি। সেখানে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে সহযোগিতা পেয়েছি, এতে সত্যিই কৃতজ্ঞ। দৃঢ় প্রত্যাশা থাকবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারা রাষ্ট্রের, সরকারের কর্মচারী হিসেবে দলীয় চিন্তা-ভাবনার ঊর্ধ্বে থেকে পক্ষপাতহীন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবেন। কোনো অনিয়ম, সহিংসতা হবে না। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।’
নির্বাচন কমিশনার মো. আহসান হাবিব খান বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে আপনারাই হচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের বিশ্বস্ত সহায়তাকারী এবং আপনারাই আমাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আমাদের শপথ নেওয়ার পর সহস্রাধিক নির্বাচনে শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আন্তরিকতার সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারকে সহযোগিতা করেছেন। যার ফলে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিটি নির্বাচন কোনো প্রকার সহিংসতা ছাড়াই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে।’
তিনি বলেন, আইনে কিছু পরিবর্তন হয়েছে। কিছু কনফিউশন থাকলে জেনে নেবেন। রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার কাদের করা হবে এখনো ঠিক হয়নি। এটা তফসিল ঘোষণা হবে যখন, তখনই কেবল জানা যাবে। কিন্তু দায়িত্ব পালন সবাইকেই করতে হবে।
আরেক কমিশনার রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘সুন্দর, সুষ্ঠুভাবে যাতে কাজ করতে পারেন এজন্যই প্রশিক্ষণ জরুরি মনে করেছি। দুদিনের কোর্সে আইনগুলো সম্পর্কে ধারণা নেবেন। এটি ধারণ করে, লালন করে মাঠে প্রয়োগ করবেন।’
কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমরা শুধু আমাদের দেখছি না। বহির্বিশ্বও দেখছে। কাজেই প্রত্যেকেরই শপথ নিয়ে নামতে হবে যে, আমি আমার দায়িত্বটা সুষ্ঠু সুন্দরভাবে পালন করব। সেক্ষেত্রে হয়তো বাধা আসতে পারে, তা অতিক্রম করার জন্য ডিসি, এসপিরা স্ব স্ব উদ্যোগে সমাধান নিতে হবে।’
