অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে : টিআইবি

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:২৭ এএম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের স্ববিরোধী বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য, অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণমূলক হওয়ার বিষয়ে শঙ্কা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সিইসির ‘হাল ছেড়ে দেওয়া’ এবং প্রকারান্তরে পক্ষপাতিত্বমূলক অবস্থানের মানসিকতারও সমালোচনা করেছে সংস্থাটি।

গত শনিবার সিইসি সব দলের অংশগ্রহণ না থাকলেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলে যে মন্তব্য করেছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে গতকাল রবিবার এ হতাশার কথা জানিয়েছে টিআইবি। দুদিন আগেই তিনি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশগ্রহণ না করলে নির্বাচন অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বারবার অবস্থান বদল সন্দেহজনক ও বিভ্রান্তিমূলক উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দলীয় চিন্তার ঊর্ধ্বে থেকে নির্বাচনে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি যখন তিনি বলেন, ‘কে নির্বাচনে আসল, কে আসল না তা নয়, জনগণ যদি আসেন, ভোটাররা যদি আসেন এবং তারা ভোট প্রয়োগ করেন, তাহলেই নির্বাচন সফল হবে’। তার এ ঘোষণায় পক্ষপাতিত্বের প্রতিফলন রয়েছে, যা দেশবাসীর মধ্যে হতাশা বাড়াচ্ছে। কোনো সাংবিধানিক সংস্থার প্রধানের এমন অবস্থানে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে তা নিয়ে শঙ্কার যথেষ্ট কারণ আছে। জনগণ ভোট দিলে বড় সফলতাÑ এ কথা যেমন ঠিক, তেমনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ কথাও অজানা নয় যে, জনগণের ভোটে অংশগ্রহণের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সমপ্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করাও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য।”

স্ববিরোধী ও পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান ছেড়ে নির্বাচনকালীন সরকারের পাশাপাশি প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে ভূমিকা পালনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে নিযুক্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

টিআইবি মনে করে, আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন নির্বাচন অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া জরুরি। টিআইবির বিশ্বাস, সিইসি জানেন, শুধু আইনি বাধ্যবাধকতায় নির্বাচন শেষ করলেই জনগণের আশার প্রতিফলন ঘটবে না। সিইসির গত শনিবারের বক্তব্য শুনে আশঙ্কা হচ্ছে, তিনি হয়তো হাল ছেড়ে দিচ্ছেন। তার কথার কোনো ইতিবাচক ব্যাখ্যা দাঁড় করানো সম্ভব নয়। অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কমিশনের কাছে আরও বেশি উদ্যোগ কাক্সিক্ষত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত