মতবিনিময়ে অরিন্দম

কোনো দল নয় সম্পর্ক বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:০৭ এএম

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে, দুই দেশের জনগণের মধ্যে। এ সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে নয়। ভারত সফররত বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে গতকাল সোমবার মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের ২৮ সাংবাদিক গত রবিবার এক সপ্তাহের জন্য ভারত সফরে গেছেন।

মতবিনিময়কালে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর তৎপরতা ও ভারতের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে। অরিন্দম বাগচি বলেন, ‘ভারত চায় বাংলাদেশে সবসময় গণতন্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকুক। সে দেশে গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকুক। কিন্তু ভোট দেবে সে দেশের জনগণ। তারাই ঠিক করবেন ক্ষমতায় কারা থাকবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক চিরন্তন। ক্ষমতায় যারাই থাকুক, ভারত তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে। সেই সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে নয়।’

এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বাগচির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব (বাংলাদেশ-মিয়ানমার) স্মিতা পন্থ ও পরিচালক নবনীতা চক্রবর্তী এবং বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব শিলাদিত্য হালদার।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর দাবি প্রসঙ্গে সফররত সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অরিন্দম বাগচি বলেন, ‘ভারতের সংবিধানে এমন কোনো বিধান নেই। ভারতে ভোট হয় ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই। বাংলাদেশের ভোটও সম্ভবত সংবিধান অনুযায়ীই হবে। সে বিষয়ে ভারতের কোনো মতামত নেই। এটা একান্তই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের জনগণই তা ঠিক করবেন।’

ব্রিকসে বাংলাদেশের সদস্যপদ না পাওয়ার নেপথ্যে ভারতের ভূমিকা রয়েছে এমন প্রচার সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ‘যারা এসব কথা রটায়, তারা ব্রিকসের সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া জানে না। ভারত সবসময় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চায়। ভারত মনে করে, প্রতিবেশী ভালো থাকলে, উন্নতি করলে, সবল হলে ভারতেরই লাভ। সে কারণেই বাংলাদেশকে ভারত জি-২০ সম্মেলনে বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।’

বৈঠকে ভারতের ভিসানীতি ও এ নিয়ে সাম্প্রতিক জটিলতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে ভারতের কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমান ভিসাসংকট সাময়িক। পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

বাংলাদেশের সাংবাদিকরা গতকাল ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের সঙ্গেও বৈঠক করেন। রাজীব কুমার বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণত ৫০ শতাংশ ভোট পড়লে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়। ভারতের শেষ লোকসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৬৭ শতাংশ। তার আশা, বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে।

রাজীব কুমার বলেন, অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মারফত দ্রুত ভুল তথ্য, গুজব, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর মোকাবিলা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।

ভারতের নির্বাচন প্রসঙ্গে রাজীব কুমার বলেন, দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো জানে নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি দলই নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচন কমিশনের প্রতিও তারা আস্থাশীল।

ভারত সফররত বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ওবায়দুল হক, প্রণব সাহা, রাহুল সাহা, রেজওয়ানুল হক প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত