২৮ অক্টোবরমুখী রাজনীতি

লাগাতার ঢাকার রাজপথে থাকবে বিএনপি

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:৪৭ এএম

সরকার পতনের এক দফার দাবি আদায়ে ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছে বিএনপি। সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা মহাসমাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় আসবেন। এরপর সরকারের পতন না ঘটিয়ে তারা বাড়িতে ফিরে যাবেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে এমন আভাস দিয়েছেন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা। মহাসমাবেশ সফল করতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিভাগওয়ারি বৈঠক করবেন। আজ শুক্রবার থেকে এ বৈঠক শুরু হবে।

বিএনপি নেতারা বলেন, ১২ জুলাই ঢাকায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে সরকার পতনের এক দফার ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এক দফার কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ থেকে শুরু হবে লাগাতার আন্দোলন।

মহাসমাবেশের প্রস্তুতির বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার পতনের এক দফার চূড়ান্ত আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সারা দেশের নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসবে। সরকারের পতন না ঘটিয়ে তারা ঘরে ফিরে যাবে না। মহাসমাবেশ সফল করতে আমরা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমরা ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছি। ইতিমধ্যে যেসব আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে, তা পর্যালোচনা করেছি। কোথায় কোথায় সমস্যা ছিল, তা সমাধান করা হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মহাসমাবেশ সফল করতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিভাগওয়ারি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। প্রথম বৈঠক হবে আজ শুক্রবার ময়মনসিংহে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ময়মনসিংহে যাবেন জেলা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেলা নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবেন। নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। এখন আর ঢাকার বাইরে কর্মসূচি নয়। যে কর্মসূচি হবে তা ঢাকায়ই হবে। ঢাকার মহাসমাবেশ সার্বিকভাবে সমন্বয় করবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।’

জেলা নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের তৃণমূলে যাওয়ার বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘ময়মনসিংহে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান থাকবেন। তার সঙ্গে যোগ দেবেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম। মহাসমাবেশ সফল করতে জেলা নেতারা কীভাবে ঢাকায় আসবেন, কোথায় থাকবেন, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘১২ জুলাই ঢাকায় সমাবেশ থেকে যে এক দফা দাবি ঘোষণা করা হয়েছিল, তারপর আমরা সময় নিয়েছি শুধু প্রস্তুতির জন্য। বিশেষ করে ঢাকার প্রবেশপথে যে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল, তা ছিল প্রস্তুতির অংশ। বিশেষ করে সক্ষমতা যাচাই এবং করণীয় নির্ধারণ করার জন্য সে কর্মসূচি ছিল। কোথায় কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।’

এদিকে কুমিল্লায় যাবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বিষয়ে কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মহাসমাবেশ সফল করতে কুমিল্লায় প্রস্তুতি সভা হবে। তবে কবে হবে, তা জেলা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।’

বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রস্তুতি সভার তারিখ ঠিক করা হবে।’

চলতি বছরের ১২ জুলাই সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা করে বিএনপিসহ ৩৬ রাজনৈতিক দল। ভিন্ন মঞ্চ থেকে একযোগে এক দফা ঘোষণা করে গণতন্ত্র মঞ্চ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরামের একাংশ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও গণতান্ত্রিক বামঐক্য। এ ছাড়া বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করছে ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি)। ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপির সঙ্গে আন্দোলন না করলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে পৃথকভাবে রাজপথে আন্দোলনে রয়েছে।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ দিয়েই শুরু হবে সরকার পতনে এক দফার ধারাবাহিক আন্দোলন। সরকারের পতন ঘটিয়ে আমরা ঘরে ফিরে যাব।’

গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মহাসমাবেশ থেকে সরকারকে তফসিল ঘোষণা না করার অনুরোধ জানানো হবে। এরপরও একতরফা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে লাগাতার আন্দোলন শুরু হবে। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত সে আন্দোলন চলবে।’

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে বসে পড়বে। এ বিষয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজপথে বসে থাকার কোনো পরিকল্পনা বিএনপির নেই। কারণ বিএনপি একটি দায়িত্বশীল দল। বিএনপি তিনবার ক্ষমতায় ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে এমন ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়।’

গত বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, ‘মহাসমাবেশ থেকে আমাদের মহাযাত্রা শুরু হবে। এরপর সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আর থেমে থাকব না। অনেক বাধা আসবে। অনেক বিপত্তি আসবে। এসব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অশান্তি সৃষ্টিকারী আওয়ামী লীগের পতন ঘটাব।’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এখান থেকে ঘরে ফিরে গিয়ে কেউ বসে থাকবেন না। মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে জানাবেন এ সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠেছে। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মানুষ সরকারের পতন ঘটাবে।’

গত বছর ১০ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার গোলাপবাগে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ থেকে সরকার পতনে ১০ দফা কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এরপর গণমিছিল, পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত