ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও খিলগাঁও থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইউনুস মৃধাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল রবিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে খিলগাঁওয়ের বাসভবনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা আরও জানান, আটকের পর ইউনুস মৃধাকে রামপুরা থানায় নেওয়া হয়।
এ নিয়ে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বিএনপির অন্তত ১০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলো বলে দাবি করেছেন দলটির নেতারা। তবে পুলিশ বলছে, যেসব নেতাকর্মীর তালিকা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, এর মধ্যে সবাইকে আটকের তথ্য সঠিক নয়।
ঢাকা মহানগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সাইদুর রহমান মিন্টু বলেন, গতকাল রাতে আটক করা ইউনুস মৃধা সব মামলায় জামিনে আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার রাত থেকে রবিবার রাত) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে ৩০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে গত ১৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সাত্তারকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় তাদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে উত্তরের গ্রেপ্তার নেতারা হলেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. হানিফ, দেলোয়ার হোসেন খান, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা উদ্যান ইউনিটের সভাপতি মো. ইউসুফ, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মান্নান হোসেন শাহীন এবং আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজ শেখ। অন্যদিকে দক্ষিণের গ্রেপ্তার নেতারা হলেন ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. এলিম হোসেন, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি সালেহ মোহাম্মদ খোকন, ইলিয়াস আলী, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা ইব্রাহীম হকি, কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপি নেতা মো. আকরাম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. মাইদুল, মো. আমির হোসেন, মো. বিল্লাল হোসেন, ৭০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব শরীফ, ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা পিন্টু, নাসির, ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য বকুল মিয়া, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের হলুদ মিয়া, ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের ১ নম্বর ইউনিট বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক বদর মিয়া, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ভাগলপুর ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানা এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মুক্তার হোসেন।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর, আদাবর, খিলগাঁও ও মতিঝিল থানায় যোগাযোগ করলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলেন, তারা নিয়মিত মামলা বা বিভিন্ন কারণে অনেককে আটক করেন। তাদের মধ্যে কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, তা পরিষ্কার নয়।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ গতকাল সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘প্রতিদিন অনেক বহিরাগত ঢাকায় আসে। তারা এসে বিভিন্ন অপরাধ করে। রাজধানীতে অনেক কেপিআইভুক্ত স্থাপনা রয়েছে, সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কেউ যাতে নাশকতা না করতে পারে, সেজন্য চেকপোস্ট বসানো হয়। এটা পুলিশের রুটিন কাজ।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকায় বিএনপির আসন্ন সমাবেশ কেন্দ্র করে কোনো নাশকতার আশঙ্কা নেই। তবে পুলিশের কঠিন চেকপোস্ট ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারেও পুলিশের নিয়মিত কাজ চলমান থাকবে।’
